৪০ দিনে ১৩ বার সাপের কামড়! কোনওমতেই পিছু ছাড়ছেনা সে, তরুণী যা বলল শুনলে আঁতকে উঠবেন

উত্তর প্রদেশের কৌশাম্বির বসতি ভাইসা গ্রামে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরী দাবি করেছে যে, তাকে গত ৪০ দিনে একটি কালো সাপ অন্তত ১৩ বার কামড়েছে। তার এই দাবি স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

কিশোরী জানায়, “একটি কালো সাপ আমার পেছনে লেগে আছে। প্রতিবার কামড়ালে মনে হয় শরীরে বিদ্যুৎ ঝাঁকুনি লাগছে, আর কামড়ের দাগও দেখা যাচ্ছে।” তার বাবা রাজেন্দ্র জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল ২২ জুলাই এবং এরপর থেকে তারা মেয়ের চিকিৎসার পেছনে ৪ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেছেন। পরিবার রাতে ঘরের দরজা বন্ধ করেও সাপের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সাপটি কখনও ঘরের ভিতরে, কখনও বা বাইরে এসে তাকে কামড়াচ্ছে। যদিও পরিবার একাধিকবার এই সাপের কথা বললেও গ্রামের অন্য কেউ সেটি দেখেনি।

কিশোরীর বাবা-মায়ের দাবি সত্ত্বেও চিকিৎসকরা এই বিষয়ে সন্দিহান। কৌশাম্বির চিফ মেডিক্যাল অফিসার (CMO) ড. সঞ্জয় কুমার জানান, ২২ জুলাই এবং ১৩ আগস্ট মেয়েটিকে সাপের কামড়ের জন্য চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ১৩ বার কামড়ানোর কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ওই বাড়িটি কাঁচা মাটির তৈরি এবং বর্ষাকালে সাপ এ ধরনের ঘরেই আশ্রয় নেয়। তাই ওই এলাকায় ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিরাথু কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের (CHC) চিকিৎসক ড. অরুণ কুমার জানান, কামড়ের জায়গায় কোনো বিষাক্ত সাপের দাঁতের স্বাভাবিক দাগ দেখা যায়নি। কিছু চিকিৎসক মনে করছেন, এর পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে। কৌশাম্বি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. হরিওম কুমার সিং বলেন, “একই সাপ এক ব্যক্তিকে এতবার কামড়েছে, এমন কোনো চিকিৎসাগত নজির নেই। এটা সম্ভবত স্নেক ফোবিয়ার একধরনের রূপ।”

এই ঘটনায় পুরো গ্রাম চরম আতঙ্কের মধ্যে আছে। কিশোরীর পরিবার এটিকে বাস্তব হুমকি হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এটিকে মানসিক ভ্রমের ফল বলে মনে করছেন। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।