২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবার ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু এই পরাজয় মানতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কালীঘাটে নিজের বাসভবন থেকে আয়োজিত এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে ভোট গণনা নিয়ে একগুচ্ছ চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর নিশানায় যেমন রয়েছে বিজেপি, তেমনই কাঠগড়ায় তুলেছেন নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
“পেটে লাথি মারা হয়েছে আমাকে”
এদিনের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভবানীপুর কেন্দ্রের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে তাঁকে শারীরিক হেনস্থা করা হয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “গণনাকেন্দ্রের ভিতরে আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, এমনকি আমার পেটে লাথিও মারা হয়েছে।” তাঁর দাবি, যখন এই ঘটনা ঘটানো হয়, তখন চক্রান্ত করে কেন্দ্রের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল।
ইভিএম জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর দাবি
ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ইভিএম (EVM) মেশিনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “ভোট দিতে গেলে ইভিএম-এর চার্জ যেখানে ৪০ শতাংশ দেখানোর কথা, গণনার সময় তা ৯০ শতাংশ হয়ে যাচ্ছে কী করে? পুরো মেশিন নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নিয়েছিল ওরা।” তাঁর অভিযোগ, অফিসাররা একতরফা কাজ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশন কার্যত বিজেপির কাছে ‘বিক্রি’ হয়ে গিয়েছে।
কমিশনই আসল ‘ভিলেন’?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, এই লড়াইটা বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। তারা মানুষের অধিকার লুঠ করেছে।” কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘গুন্ডা বাহিনী’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, পরাজয় নিশ্চিত করতে সর্বত্র ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
“ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই নেই”
নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেও পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর মতে, নৈতিক জয় তৃণমূলেরই হয়েছে। জোর করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা চলছে অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন না।
ফল ঘোষণার পর মমতার এই ‘রণংদেহি’ মেজাজ এবং শারীরিক হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। একদিকে যখন বিজেপি জয়ের উৎসবে মত্ত, তখন মমতার এই বিস্ফোরক দাবি নতুন কোনও সাংবিধানিক বা আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে।





