২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যে আগুনের ফুলকি জ্বলেছিল, আজ ৩৭ দিন পর তা এক প্রলয়ঙ্করী রূপ নিল। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি বিশ্বজুড়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্ক উসকে দিয়েছে। ট্রাম্পের সাফ কথা— আজ রাতের পর মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে যেতে পারে ইরানের সভ্যতা!
ভারতীয়দের জন্য ‘কার্ফু’ জারি
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চরম হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। ইরানে বসবাসকারী হাজার হাজার ভারতীয়র প্রাণ বাঁচাতে জারি করা হয়েছে বিশেষ নির্দেশিকা:
৪৮ ঘণ্টার বন্দিদশা: আগামী অন্তত ৪৮ ঘণ্টা কোনো ভারতীয়কে ঘরের বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে।
বিপজ্জনক এলাকা: মিলিটারি বেস, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং যে কোনো সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কাছ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
বহুতল এড়িয়ে চলুন: বড় বড় বহুতল ভবন বা তার উপরের তলায় থাকা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।
ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা: সড়কপথে যাতায়াত পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন আজ রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের দেওয়া ‘ডেডলাইন’ আজ রাতেই শেষ হচ্ছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের বয়ানে ‘সভ্যতা নিশ্চিহ্ন’ করার যে ইঙ্গিত রয়েছে, তা অনেককেই পরমাণু যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
উদ্বেগে দিল্লি
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতির ওপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে উদ্ধার করা হলেও, এখনও যাঁরা সেখানে আটকে রয়েছেন তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন মোদী সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, তেহরান থেকে ওয়াশিংটন—সবার নজর এখন যুদ্ধের ময়দানের দিকে। আজ কি সত্যিই ধ্বংস হবে পারস্য সভ্যতা?





