রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব না কি জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সাফল্য? ‘যুব সাথী’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এখন এই তর্কেই সরগরম বাংলার রাজনীতি। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে আবেদনের হার সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ আবেদন। শুধু সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্তই নতুন করে ৯১ হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
পরিসংখ্যান ও জেলাভিত্তিক চিত্র পরিসংখ্যান বলছে, আবেদনের নিরিখে সবার উপরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। সেখানে দেড় দিনেই ৭৭ হাজার ৭৯০ জন বেকার ভাতার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছেন। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪৯,৪৪৯) ও বাঁকুড়া (৪৮,১২২)। খাস কলকাতায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৭৮০। পাহাড়ের কালিম্পং জেলা থেকে সবচেয়ে কম (২,৭১৪) আবেদন জমা পড়লেও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
বিজেপির কড়া সমালোচনা এই বিপুল ভিড়কে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারকে বিঁধতে ছাড়েনি বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদার— প্রত্যেকেরই সুর এক। তাঁদের দাবি, রাজ্যে কলকারখানা বা কর্মসংস্থান নেই বলেই শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা মাত্র ১৫০০ টাকার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “যোগ্যরা চাকরি পাচ্ছে না, আর অযোগ্যরা টাকা দিয়ে চাকরি কিনছে। তাই সাধারণ যুবক-যুবতীরা আজ ভাতার লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছে।” বিজেপির দাবি, এটি আসলে রাজ্যের ‘ভয়াবহ বেকারত্বের জীবন্ত দলিল’।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব পাল্টা দিতে দেরি করেনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং শশী পাঁজার দাবি, এই ভিড় প্রমাণ করে বাংলার মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কতটা আস্থাশীল। তাঁদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার কর্মসংস্থান দিতে ব্যর্থ বলেই রাজ্য সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যুবকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন, যা তাঁদের চাকরির প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ‘যুব সাথী’ প্রকল্প যে আগামী দিনে প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।