বারাণসীর ঐতিহাসিক মণিকর্ণিকা ঘাটের ভোলবদল নিয়ে যখন উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি উত্তপ্ত, ঠিক তখনই এই ঘাটের প্রস্তাবিত পুনর্গঠনের (Renovation) ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা প্রকাশ্যে আনল যোগী সরকার। একদিকে বুলডোজার দিয়ে পুরনো কাঠামো ভাঙার অভিযোগ, অন্যদিকে বিশ্বমানের পরিকাঠামো গড়ার প্রতিশ্রুতি— এই দুইয়ের টানাপোড়েনে এখন সরগরম মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসী।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কড়া বার্তা শনিবার বারাণসী সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সরাসরি বিরোধীদের তোপ দেগে বলেন, “কাশীকে বদনাম করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।” সার্কিট হাউসে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, মূর্তিও ভাঙার যে খবর রটানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, কাশী বিশ্বনাথ ধাম তৈরির সময়ও এমন বাধা এসেছিল, কিন্তু সরকার প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষা করেই আধুনিকীকরণে বদ্ধপরিকর।
কেমন হবে নতুন মণিকর্ণিকা ঘাট? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ভিশন কাশী’ প্রকল্পের অধীনে মণিকর্ণিকা ঘাটের ভোলবদলে প্রথম পর্যায়ে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নকশায় দেখা যাচ্ছে:
বিশাল প্ল্যাটফর্ম: একসঙ্গে অনেক বেশি দাহকার্য সম্পন্ন করার জন্য প্ল্যাটফর্মের আয়তন বাড়ানো হচ্ছে।
সহজ যাতায়াত: সরু গলির বদলে প্রশস্ত রাস্তা এবং আধুনিক টয়লেট ব্লকের ব্যবস্থা থাকবে।
পরিচ্ছন্নতা: গঙ্গার পাড় থেকে টন টন আবর্জনা সরিয়ে এলাকাটিকে দূষণমুক্ত করা হবে।
ঐতিহ্য রক্ষা: প্রাচীন আধ্যাত্মিক গুরুত্ব বজায় রেখেই দর্শনার্থীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া ও বিশ্রামাগার তৈরি হবে।
তীব্র আক্রমণে কংগ্রেস তবে এই উন্নয়নকে মানতে নারাজ কংগ্রেস। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা কড়া ভাষায় বলেন, “উন্নয়নের নামে লোকমাতা অহিল্যাবাই হোল্করের স্মৃতি বিজড়িত মণিকর্ণিকা ঘাটে বুলডোজার চালানো ঘোর পাপ।” উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায়ের অভিযোগ, করিডোরের নামে আসলে ‘মল’ সংস্কৃতি আমদানি করা হচ্ছে এবং প্রাচীন মন্দির ও বটবৃক্ষ ধ্বংস করা হচ্ছে।
মণিকর্ণিকা ঘাটে বছরে ৩৬৫ দিন চিতার আগুন নেভে না। এই আধ্যাত্মিক আবেগকে সঙ্গী করেই শুরু হয়েছে আধুনিকীকরণের কাজ। এখন দেখার, সরকারের এই ‘নিউ লুক’ নকশা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারে কি না।