পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির শারীরিক অবস্থা এবং তাঁদের সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী শফি জান কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। পেশোয়ার প্রেস ক্লাবে ইনসাফ ডক্টরস ফোরামের এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে এই দম্পতিকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
শফি জানের অভিযোগ, গত চার মাস ধরে ইমরান খান চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছেন, অথচ তাঁকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে না। জেল আইন লঙ্ঘন করে গভীর রাতে গোপনে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু চিকিৎসার কোনো স্বচ্ছ রিপোর্ট বা ডাক্তারি নথি পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়নি। সরকার পক্ষ দাবি করেছে তিন ঘণ্টা ধরে চিকিৎসা চলেছে, কিন্তু এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রাদেশিক মন্ত্রী। তিনি অবিলম্বে ইমরান ও বুশরা বিবিকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সাথে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের দ্রুত শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবিও উঠেছে।
পাক সরকারের দ্বিচারিতা নিয়ে তোপ দাগতে গিয়ে শফি জান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের জেলজীবন এবং ইমরান খানের বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে তুলনা টেনেছেন। তাঁর মতে, নওয়াজ শরিফ যখন বন্দি ছিলেন, তখন তিনি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পেয়েছিলেন, অথচ ইমরান খানের ক্ষেত্রে অমানবিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার যেভাবে এই দম্পতিকে পরিবারের সদস্য ও দলের নেতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে, তাকে সরাসরি আদালত অবমাননা বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও সরব হয়েছে প্রাদেশিক সরকার। শফি জানের দাবি, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। প্রদেশটির ৪.৮ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি বকেয়া অর্থ আটকে রাখা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বাড়ছে। মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছানোয় কেন্দ্রীয় সরকারের অদূরদর্শিতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) বড় ধরনের আন্দোলনের পথে হাঁটছে। শফি জান জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যান-ইন-ওয়েটিং মাহমুদ খান আচাকজাইকে সরকার বিরোধী আন্দোলনের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ইমরান খান ও বুশরা বিবির অবিলম্বে মুক্তি এবং যথাযথ চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত পিটিআই। বর্তমান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন আগামী দিনে পাক রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





