শহরের বুকেই ফের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বলি হলেন এক যুবক। দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টার উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে উদ্ধার হলো খোলা নর্দমায় পড়ে যাওয়া নিখোঁজ যুবকের কাদামাখা মৃতদেহ। শুক্রবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরসভার চরম গাফিলতি এবং খোলা নর্দমার কারণেই এক তরতাজা প্রাণ অকালে ঝরে গেল।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার রাতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় অন্ধকারের কারণে নর্দমাটি দেখতে পাননি ওই যুবক। মুহূর্তের মধ্যে তিনি তলিয়ে যান গভীর নর্দমায়। খবর পেয়েই উদ্ধারকাজে নামে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। কিন্তু নর্দমার গভীরতা এবং জমা পলি ও আবর্জনার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়। ড্রোন এবং রোবটিক ক্যামেরা ব্যবহার করেও প্রথমে তাঁর হদিস মেলেনি। অবশেষে ৩০ ঘণ্টা পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে পলি ও কাদার নিচ থেকে তাঁর দেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মৃত যুবকের পরিবারে এখন শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর এই পরিণতিতে বাকরুদ্ধ পরিজনেরা। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই নর্দমাটি খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একাধিকবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ঢাকনা বা সতর্কতামূলক বোর্ড লাগানো হয়নি। তাঁদের প্রশ্ন, “উন্নয়নের গল্প শোনানো প্রশাসনের চোখে কি এই মরণফাঁদগুলো পড়ে না?”
পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘক্ষণ কাদা ও বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও, যে প্রাণ চলে গেল তা ফিরে আসার নয়। এই ঘটনাটি ফের একবার শহরের ড্রেনেজ সিস্টেম এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করল।