মৃত্যুর মুখে লড়াই! বাংলাদেশে আইসিইউ কি এখন সোনার হরিণ? চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগলেও মুমূর্ষু রোগীদের জন্য জীবনদায়ী ‘আইসিইউ’ (ICU) এবং ‘ভেন্টিলেশন’ সেবা এখনও সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাজধানী থেকে জেলা শহর—সর্বত্রই যেন এক করুণ চিত্র। সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে বেসরকারি হাসপাতালের চড়া বিল মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে মধ্যবিত্ত পরিবার।
সরকারি বনাম বেসরকারি: বৈষম্যের পাহাড় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে আইসিইউ বেডের সংখ্যা বাড়লেও তা ১৭ কোটির বেশি জনসংখ্যার তুলনায় সমুদ্রের এক ফোঁটা জলের মতো। অধিকাংশ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেডের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকার দীর্ঘ সারি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ১০-২০টি বেডের বিপরীতে সিরিয়ালে আছেন শতাধিক রোগী। ফলে ভেন্টিলেশন সুবিধার অভাবে অনেককেই সাধারণ ওয়ার্ডে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে হচ্ছে।
খরচের লাগামহীন দৌড় বেসরকারি হাসপাতালে একটি আইসিইউ বেডের একদিনের ভাড়া ৩০ হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ওষুধের খরচ এবং অন্যান্য পরীক্ষা তো আছেই। জীবন বাঁচাতে জমি-জমা বা শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে আইসিইউ-এর খরচ জোগাতে গিয়ে পথে বসছে বহু পরিবার। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ” নিশ্চিত করতে না পারলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
ঢাকার বাইরে নেই বললেই চলে ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সংকট আরও প্রকট। অনেক জেলা সদর হাসপাতালে কাগজে-কলমে আইসিইউ থাকলেও দক্ষ জনবল এবং যন্ত্রপাতির অভাবে সেগুলো অকেজো পড়ে রয়েছে। ভেন্টিলেটর চালানোর মতো প্রশিক্ষিত নার্স ও চিকিৎসকের তীব্র অভাব রয়েছে প্রান্তিক জনপদে। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকামুখী হতে হচ্ছে, যার পথে অনেকেরই মৃত্যু ঘটছে।
সরকারের নতুন পদক্ষেপ সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। ৪৪টি নতুন আইসিইউ শয্যা সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত হাসপাতালে যুক্ত করা হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।