কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই সাংবাদিক সম্মেলন করে কড়া ভাষায় পালটা আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে মহিলাদের ভাতা— একাধিক ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র নিশানা করেন তিনি।
অনুপ্রবেশ ও শেখ হাসিনা ইস্যু: অমিত শাহের অনুপ্রবেশের অভিযোগের জবাবে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “শেখ হাসিনা দেড় বছর ধরে এখানে (ভারতে) আছেন। কী করছেন তিনি? তাঁর স্ট্যাটাস কী?” একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, যদি অনুপ্রবেশ আটকানোই হয়, তবে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা কেন হলো বা দিল্লিতে বিস্ফোরণ কেন ঘটছে? অভিষেকের দাবি, দিল্লি পুলিশ ও সীমান্ত যাদের নিয়ন্ত্রণে, ব্যর্থতাও তাদেরই।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম ৩০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি: বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’-এ মহিলাদের ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে ‘নতুন জুমলা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর তোপ:
প্রধানমন্ত্রী এর আগে দিল্লিতে মহিলাদের ২৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু ১৪ মাসে কেউ ৫ পয়সাও পায়নি।
শাহের এই প্রতিশ্রুতি আসলে ‘চিটফান্ডের প্রতিশ্রুতি পত্র’-এর মতো।
অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, কোনো প্রশ্ন ছাড়াই বাংলার মায়েদের সম্ভ্রম রক্ষা করে তৃণমূল যেভাবে টাকা দেয়, তা বিজেপি শাসিত কোনো রাজ্যে করে দেখাক।
শ্বেতপত্র ও দুর্নীতি ইস্যু: অভিষেক আরও একবার কেন্দ্রীয় বকেয়া নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি তোলেন। তিনি বলেন, ২০২৪-এর পর কেন্দ্র কত টাকা বাংলাকে দিয়েছে, তার জবাব আজও মেলেনি। দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর খোঁচা, “হিমন্ত বিশ্বশর্মা, শুভেন্দু অধিকারীরা বিজেপিতে গেলেই ওয়াশিং মেশিনে স্বচ্ছ হয়ে যান।”
রিমোট কন্ট্রোল শাসন: বিজেপি ক্ষমতায় আসলে বাংলা যে দিল্লি-গুজরাত থেকে ‘রিমোটে’ পরিচালিত হবে, শুক্রবার তা শাহের কথায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন অভিষেক। তিনি বলেন, বিজেপি আসলে টাকার প্রলোভন দিয়ে বাংলার মানুষের সম্ভ্রম কিনতে চাইছে।





