‘২ বছরের কম বয়সিদের কাফ সিরাপে ‘না’,-মৃত্যু রুখতে জারি হলো কড়া নির্দেশ!

রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে কাফ সিরাপ সেবনের পর ১১ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। রবিবার সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করা হয়, যেখানে ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাফ সিরাপ খাওয়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই ঘটনার জন্য দায়ী ওষুধ প্রস্তুতকারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক থেকে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা:
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব পুণ্য সলিলা শ্রীবাস্তব বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
- লাইসেন্স বাতিল: নিয়ম লঙ্ঘনকারী ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির লাইসেন্স বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওষুধের মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কোনো প্রস্তুতকারককে রেয়াত করা হবে না।
- নজরদারিতে জোর: সব রাজ্যকে কাফ সিরাপের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার এবং শিশুমৃত্যুর মতো ঘটনাগুলির উপর IDSP-IHIP (ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম – ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্ম) নামক সিস্টেমের মাধ্যমে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত রিপোর্টিং এবং রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
- জরুরি নমুনা পরীক্ষা: যে রাজ্যগুলিতে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার ফার্মেসি এবং হাসপাতালগুলিতে মজুত সমস্ত কাফ সিরাপের নমুনা জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করে পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উৎপাদনকারী ইউনিটগুলির ব্যবহৃত Propylene Glycol নমুনার মানও পরীক্ষা করা হবে।
রাজ্যগুলিতে দ্রুত পদক্ষেপ:
রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে ১১ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনার জেরে রাজ্যগুলিও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
- রাজস্থান: সেখানে নিরাপদ ওষুধ ব্যবহার নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু সিরাপের ওপর বিধিনিষেধ জারি করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
- উত্তরপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু: উত্তরপ্রদেশে মেডিক্যাল সাপ্লাই কর্পোরেশনকে নির্দিষ্ট সিরাপের স্টক বিতরণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ুতেও COLDRIF নামক একটি সিরাপের নির্দিষ্ট ব্যাচে ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়ার পরে ওই প্রস্তুতকারকের সিরাপ ও অন্যান্য পণ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
বিষাক্ত রাসায়নিকের হানা!
যদিও এই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কাফ সিরাপের নমুনা পরীক্ষা করে কেন্দ্র প্রাথমিকভাবে কোনো বিষাক্ত পদার্থ না থাকার দাবি করেছে (যদিও অন্য একটি পরীক্ষায় ডাইইথিলিন গ্লাইকল পাওয়া যাওয়ার খবর আছে), তবে কিছু ব্র্যান্ডের সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকল (DEG) ও ইথিলিন গ্লাইকল (EG) নামক দু’টি রাসায়নিক পাওয়া গিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই রাসায়নিক দু’টি শরীরে প্রবেশ করলে ভয়ানক ক্ষতি এমনকি কিডনি ফেইলিওর-এর মতো গুরুতর অসুস্থতা ঘটাতে পারে।
উল্লেখ্য, শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় ত্রুটির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ওষুধ শিল্পের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করা জরুরি।