২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা ঘিরে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তা কাটাতে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হওয়ার পর দেখা গিয়েছে, প্রায় ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জন মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ করতে এবার তিন প্রাক্তন বিচারপতির একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করলেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
৩২ লক্ষের হাসি, ২৭ লক্ষের কান্না: নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিচারাধীন তালিকা থেকে ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম ভোটার তালিকায় ফিরলেও, বাদ পড়েছেন প্রায় ২৭ লক্ষের বেশি মানুষ। এই বাদ পড়া ভোটারদের জন্য একমাত্র আশার আলো হলো ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’। কিন্তু ২ এপ্রিল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা কার্যত অধরাই থেকে গিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রার্থীদের বিশেষ আবেদনের ভিত্তিতেই কিছু নিষ্পত্তি হয়েছে, কিন্তু আমজনতা রয়ে গিয়েছেন বিশ বাঁও জলে।
হাইকোর্টের মেগা কমিটি ও সুপ্রিম নির্দেশ: গত সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, রাজ্যের ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালেই অভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ চালাতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে এবার ট্রাইব্যুনালের কাজের রূপরেখা বা ‘প্রসিডিউর’ ঠিক করতে কমিটি গড়ে দিলেন প্রধান বিচারপতি। এই কমিটিতে থাকছেন:
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানম
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রদীপ্ত রায়
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার দেব
ভোট দেওয়া কি আদৌ সম্ভব? কমিটি গঠিত হলেও বড় প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে— ভোটের আগে কি আদৌ এই ২৭ লক্ষ মানুষের শুনানি শেষ করে নাম তোলা সম্ভব? আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যে সময় হাতে আছে তাতে সবার নিষ্পত্তি হওয়া কার্যত অসম্ভব। ফলে ডিলিটেড ভোটাররা এবারের নির্বাচনে আদৌ বুথে গিয়ে বোতাম টিপতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।





