২৬ হাজার শিক্ষকের পর এবার টেট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়! চাকরি হারাতে পারেন আরও হাজার হাজার শিক্ষক!

২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ধাক্কা এখনও টাটকা। এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট থেকে এল আরও একটি বড় খবর, যা রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষকের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। এবার শিক্ষকতার চাকরি টিকিয়ে রাখতে বা পদোন্নতি পেতে টেট (TET) পাশ করাকে বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করল দেশের শীর্ষ আদালত। এই রায়ের ফলে বহু শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অনিশ্চয়তায়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কী?
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, পাঁচ বছরের বেশি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলেও টেট পাশ না করলে চাকরি থাকবে না। ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন ২০১১ সালেই শিক্ষক নিয়োগে টেট বাধ্যতামূলক করার কথা বলেছিল। এবার সেই নিয়মকেই আরও কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

কারা পেলেন ছাড়?
কঠোর এই রায়ের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন কিছু শিক্ষক। তাঁদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট কিছু বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে।

২০০৯ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক: ২০০৯ সালে ‘শিশুদের বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার আইন’ কার্যকর হওয়ার আগে যাঁরা শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন, তাঁদের টেট পাশ করার জন্য আরও দুই বছরের সময় দেওয়া হয়েছে।

অবসরের মুখে যাঁরা: যে শিক্ষকদের অবসর নিতে আর মাত্র পাঁচ বছর বাকি, তাঁদের টেট পাশ না করলেও চাকরি করে অবসর নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের কোনো ধরনের পদোন্নতি পাওয়ার সুযোগ নেই।

ভবিষ্যৎ কী?
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে যেসব শিক্ষক টেট পাশ করতে পারবেন না, তাঁদের হয় চাকরি ছাড়তে হবে, নয়তো বাধ্যতামূলক অবসর নিতে হবে। যদিও সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানগুলোতে টেট বাধ্যতামূলক হবে কি না, সেই বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে আলোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই রায় শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনবে এবং শিক্ষার মান উন্নত করতে সাহায্য করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy