আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃতীয় বারের মেয়াদ শেষের পথে এবং চতুর্থ বার ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘর থেকে গত ১৫ বছরে তাঁর সরকারের সাফল্যের খতিয়ান বা ‘প্রোগ্রেস রিপোর্ট’ জনসমক্ষে তুলে ধরবেন তিনি।
নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিক দলিল পেশ
নবান্ন সূত্রে খবর, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কাজের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত একাধিক ‘বই’ বা রিপোর্ট এদিন প্রকাশ করা হবে। ২০১১ সালে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত— এই দীর্ঘ দেড় দশকে বাংলা উন্নয়নের ঠিক কোন ধাপে পৌঁছেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান থাকবে এই রিপোর্টে। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ অনুষ্ঠান নয়, রাজ্য সরকারের তরফে একটি আনুষ্ঠানিক দলিল হিসেবে পেশ করা হবে।
দফতর অনুযায়ী সাফল্যের খতিয়ান
আগামিকালের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর মূল নজর থাকবে ডেটা বা তথ্যের ওপর। প্রতিটি দফতরের গত ১৫ বছরের কাজের গ্রাফ তুলে ধরা হবে।
-
গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প: কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হবে।
-
বিশেষ ক্ষেত্র: স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্প, কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সরকারের সাফল্যকে পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা হবে।
-
রাজনৈতিক বার্তা: মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন আবেগের রাজনীতির পাশাপাশি মানুষ যেন উন্নয়নের পরিসংখ্যান দেখে সরকারকে বিচার করেন।
অপপ্রচারের জবাব ও রাজনৈতিক কৌশল
শাসক দলের মতে, গত কয়েক বছরে রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য যে নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই রিপোর্ট কার্ড প্রকাশকে বিরোধীদের যাবতীয় অভিযোগের ‘তথ্যভিত্তিক জবাব’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই রিপোর্ট কার্ড সেই উদ্দেশে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সরকারি নথিপত্র এবং পরিসংখ্যানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজেই ২০১১ সালের আগের বাংলা এবং বর্তমান বাংলার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন।
২০২৬-এর আগে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি রোখার চেষ্টা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে যে স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা (অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি) তৈরি হয়, এই রিপোর্ট পেশ আসলে সেই নেতিবাচক হাওয়া ঘোরানোর একটি কৌশল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন, নির্বাচনটি যেন পুরোপুরি উন্নয়নের নিরিখে হয়।
এই সরকারি দলিল প্রকাশের পর, এটিকে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। দলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২০১১ সালের আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে মানুষকে বোঝানোর নির্দেশ পাবেন।