২৫ বছর আর অপেক্ষা নয়! AMCA-র সঙ্গে সমান্তরালে ‘নেক্সট জেনারেশন’ ফাইটার জেট, বিরাট পরিকল্পনা ভারতীয় বায়ুসেনার

আমেরিকা, চিন ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর রাষ্ট্রগুলি ইতিমধ্যেই ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতও আর পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। অতীতের দীর্ঘসূত্রিতা এড়িয়ে এবার ভবিষ্যতের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)।

দেশীয়ভাবে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ (AMCA) প্রকল্প জোরকদমে এগোচ্ছে। কিন্তু এর সঙ্গেই সমান্তরালভাবে ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির দিকেও নজর রাখছে ভারত, যাতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে আর পিছিয়ে পড়তে না হয়।

AMCA-র ফাঁকে ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রস্তুতি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সম্পূর্ণ কার্যক্ষম পঞ্চম প্রজন্মের বিমান তৈরি করতে আরও আট থেকে দশ বছর সময় লাগতে পারে। এই সময়টিকে কাজে লাগিয়েই ভারত শুরু করেছে ষষ্ঠ প্রজন্মের প্রযুক্তির প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে:

‘ডিপ স্টেলথ’ সিস্টেম: যা যুদ্ধবিমানকে রাডারে প্রায় অদৃশ্য করে তুলবে।

মানড-আনম্যানড টিমিং: অর্থাৎ মানব চালিত ও পাইলটবিহীন বিমানের সমন্বিত অপারেশন।

লেজার অস্ত্র: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধে লেজার ডিফেন্স।

‘স্মার্ট স্টেলথ স্কিন’: যা বিমানের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াবে।

প্রতিরক্ষা সম্মেলনে এয়ার মার্শাল অবধেশ কুমার ভরতি বলেছেন, “যখন পঞ্চম প্রজন্মের প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২৫ বছর আগে, তখন আমরা অপেক্ষা করেছিলাম। এবার আর ২৫ বছর অপেক্ষা করা চলবে না।” তাঁর এই বক্তব্যই বায়ুসেনার দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করে যে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ প্রযুক্তিতে এবার গতি চাই।

২০২৮-এর পরই শুরু হবে গবেষণা
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ধাপে ধাপে এগোতে চায়। প্রথম ধাপে ২০২৮ সালের মধ্যে উড়ান দেবে AMCA-র প্রোটোটাইপ। তার পরেই ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের গবেষণা ও উন্নয়ন শুরু হবে, যা AMCA-র প্রযুক্তিগত ভিত্তির উপর নির্ভর করবে।

এই নতুন প্রজন্মের যুদ্ধবিমানে পাইলটবিহীন অপারেশন, সম্পূর্ণ দেশীয় ইঞ্জিন, ক্লিন এনার্জি সিস্টেম এবং উন্নত ‘স্মার্ট স্কিন’ প্রযুক্তি থাকবে।

যদিও আমেরিকা (NGAD), চিন (FC-31) ও রাশিয়া (PAK DP) এই ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে, ভারতীয় বায়ুসেনা মনে করছে— কৌশলগত স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের জন্য এই বিপুল বিনিয়োগ এখন কেবল সামরিক আধুনিকীকরণ নয়, বরং প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার দিকেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।