যে বাড়িতে দিন কয়েক পরেই সানাই বাজার কথা ছিল, যে উঠোন সেজে ওঠার কথা ছিল বিয়ের আলোর রোশনাইয়ে, সেখানেই এখন কান্নার রোল। বড় ছেলের বিয়ের কার্ড বিলি করতে বেরিয়েছিলেন বাবা। সঙ্গে ছিল ছোট ছেলে ও এক আত্মীয়া। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই চিতার আগুনে ছাই হয়ে গেল সব আনন্দ। মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন একই পরিবারের তিনজন।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদের নাম ভাগবত বিশ্বকর্মা (৫৫), তাঁর ছোট ছেলে শিবম এবং আত্মীয়া শীতল বিশ্বকর্মা। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি ভাগবতের বড় ছেলের বিয়ের দিন ধার্য হয়েছিল। সেই উপলক্ষেই আত্মীয়-স্বজনদের নিমন্ত্রণ করতে বাইকে করে বেরিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু রেওয়া-প্রয়াগরাজ হাইওয়ের কাছে কোস্তা গ্রামের কাছে আসতেই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক কাণ্ড। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রয়াগরাজের দিক থেকে একটি বিলাসবহুল অডি গাড়ি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে আসছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সরাসরি ভাগবতদের বাইকের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কা এতটাই প্রবল ছিল যে, তিনজনই বাইক থেকে ছিটকে বেশ কিছুটা দূরে গিয়ে পড়েন।
দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি ডিভাইডারে গিয়ে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ভাগবত, শিবম ও শীতলের। মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে নিজেদের বাড়ি পৌঁছানোর আগেই চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল তিনটি প্রাণ। যে হাতে বিয়ের কার্ড ছিল, সেই হাতই এখন নিথর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাড়িটির গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল যে বাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘাতক গাড়িটিকে আটক করেছে এবং দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বিয়ের আনন্দ উৎসবের বদলে এখন সেই বাড়িতে চলছে শ্মশানের নিস্তব্ধতা।