‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন বন্ধ করা হবে না?’ অগ্নি নির্বাপণ বিধি শিকেয় তুলে ব্যবসা! শহরের জনপ্রিয় গেস্ট হাউসগুলির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পদক্ষেপ

শহরের প্রাণকেন্দ্র তথা ব্যস্ততম অঞ্চলে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার জেরে এবার চরম নড়েচড়ে বসল রাজ্য দমকল বিভাগ। শহরের বিভিন্ন হোটেল ও লজে ক্রমাগত অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কলকাতার অন্যতম পরিচিত ও জনবহুল এলাকা মির্জা গালিব স্ট্রিট চত্বরে অবস্থিত একাধিক গেস্ট হাউস এবং রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ও প্রশাসনিক কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে দমকল দফতর। জানা গিয়েছে, সুরক্ষা সংক্রান্ত অগ্নিবিধি বা ফায়ার সেফটি নর্মস সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করার গুরুতর অভিযোগে এই সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে একযোগে শো কজ বা কারণ দর্শানোর নোটিস ধরানো হয়েছে।

দমকল দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার মোট ৯টি সুপরিচিত গেস্ট হাউস এবং ৪টি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁকে চিহ্নিত করে এই কঠোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলির প্রতি কড়া নির্দেশিকা জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, কেন তাদের বিরুদ্ধে এই বিশেষ অগ্নি নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অপরাধে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলি সম্পূর্ণভাবে সিল বা বন্ধ করে দেওয়া হবে না? এই সময়সীমার মধ্যে যথাযথ সন্তোষজনক জবাব বা সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হলে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে এই সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে।

উল্লেখ্য, এই হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই পর্যাপ্ত অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধী ব্যবস্থা না রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা হচ্ছিল। জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই সমস্ত হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলির অন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং জরুরিকালীন এক্সিট রুট বা উদ্ধারকারী পথ না থাকার মতো গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এর আগেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার জন্য এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলিকে একাধিকবার সতর্কতা মূলক নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষগুলির পক্ষ থেকে অগ্নি নির্বাপণ বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে চরম অনীহা ও উদাসীনতা দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ।

এই প্রসঙ্গে রাজ্য দমকল বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল (DG) অনুজ শর্মা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো রকম সুযোগ দেওয়া হবে না। বারবার সতর্ক করার পরেও যারা নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া দমকলের হাতে আর কোনো বিকল্প খোলা নেই। পার্ক স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের হোটেলগুলিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত। তাই বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ২৪ ঘণ্টার কড়া ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে শহরের হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও হাড়হিম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।