২৪ ঘণ্টায় ঝাড়খণ্ড থেকে উদ্ধার! মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে ফিরে পেয়ে পুরুলিয়া পুলিশকে ‘ভগবান’ মানলেন বাবা

ফের মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড থেকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে উদ্ধার করে তাঁর অপেক্ষায় থাকা পরিবারের হাতে তুলে দিল সাঁতুড়ি থানার পুলিশকর্মীরা। পুলিশের এই দ্রুত তৎপরতা ও মানবিক উদ্যোগে মুগ্ধ গোটা এলাকা।

মুরাড্ডি স্টেশন থেকে নিখোঁজ হন তরুণী

সাঁতুড়ি থানা এলাকার গাংগপুর গ্রামের বাসিন্দা, মানসিক ভারসাম্যহীন ঝুপা রাজোয়াড় সাঁতুড়ির মুরাড্ডি রেল স্টেশন থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। ঝুপার প্রতিবন্ধী বাবা ছোটেলাল রাজোয়াড় সহ পরিবারের সদস্যরা সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হন। কোনো সন্ধান না পেয়ে অবশেষে তাঁরা সাঁতুড়ি থানার দ্বারস্থ হন।

পুলিশের তৎপরতায় মিলল ঝাড়খণ্ডে খোঁজ

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাঁতুড়ি থানার পুলিশ দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে খোঁজ শুরু করা হয়। তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ ঝুপা রাজোয়াড় মুরাড্ডি স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের মান্ডু থানা এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর আর কালক্ষেপ না করে সাঁতুড়ি থানার পুলিশ দ্রুত ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশে রওনা দেয়। মান্ডু থানার সহযোগিতায় নিখোঁজ মহিলাকে তাঁরা উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এরপর সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিখোঁজ হওয়ার মাত্র এক দিনের মধ্যে ঝুপাকে তাঁর পরিবারের হাতে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

মেয়েকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত বাবা ছোটেলাল রাজোয়াড় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “আমি পুরুলিয়া জেলা পুলিশ ও সাঁতুড়ি থানার সকল পুলিশকর্মীদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। খবর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা যে তৎপরতার সঙ্গে আমার মেয়েকে খুঁজে দিলেন, তা সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন। আজ তাঁরা না থাকলে হয়তো আমি আমার মেয়েকে কোনওদিন ফিরে পেতাম না।”

স্থানীয় বাসিন্দারা পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁদের কথায়, “পুলিশের এই ধরনের কাজ সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা দেয়। ঝুপা রাজোয়াড়কে পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া, শুধুমাত্র কর্তব্য নয়, মানবিকতারও এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রইল।”