২২শে জুলাই, ২০২৫, কলকাতায় দুই রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য শহরে

মঙ্গলবার (২২শে জুলাই, ২০২৫) সকালে কলকাতার দুটি ভিন্ন প্রান্ত থেকে দুটি মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দক্ষিণ কলকাতার ল্যান্সডাউনে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ এবং কাশীপুরের বেলগাছিয়ায় একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের নিচ থেকে আরেকজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। উভয় ঘটনাতেই পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
ল্যান্সডাউনে খুন? রক্তাক্ত দেহ ও পাথরের রহস্য
মঙ্গলবার সকালে ল্যান্সডাউনের শরৎ বোস রোডের ফুটপাথে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মৃতদেহের পাশেই একটি রক্তমাখা পাথর পড়েছিল, যা প্রাথমিক সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, মৃত যুবকের নাম সোমনাথ চক্রবর্তী, যিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বাসিন্দা। হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা কাপড় এবং পাথর সহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি খুনের ঘটনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে, যাতে ঘটনার সঠিক সময়, পদ্ধতি এবং সোমনাথ চক্রবর্তীর সেখানে আসার কারণ জানা যায়।
বেলগাছিয়ায় বহুতলের নিচ থেকে শ্রমিকের দেহ উদ্ধার
একই দিনে কাশীপুরের বেলগাছিয়া রোড এলাকার রতনপুরে একটি নির্মীয়মাণ বহুতলের নিচ থেকে আরও একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। সকালে স্থানীয়দের নজরে আসার পর তাঁরা কাশীপুর থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
মৃত ব্যক্তির নাম মিঠুন মণ্ডল (৪৫), তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিঠুন রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতে বেলগাছিয়ায় এসেছিলেন এবং যে বহুতলের নিচ থেকে তাঁর দেহ পাওয়া গেছে, সেখানেই তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ছিলেন।
পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলকাতা পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। তদন্তকারীরা ওই বহুতল নির্মাণের সাথে জড়িত অন্যান্য মিস্ত্রিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। পুলিশ মূলত এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে: কীভাবে দেহটি বহুতলের নিচে পড়লো? স্থানীয়রা দেহ দেখেও কেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিলেন না? মিঠুন গত রাতে কী করেছিলেন এবং কার কার সাথে কথা বলেছিলেন? তাঁর কি কারও সাথে কোনো বিবাদ হয়েছিল?
কলকাতার বুকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুটি রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা শহরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে উভয় ঘটনার পেছনের সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।