২১ শে জুলাইয়ের প্রস্তুতিতে মমতা, বাম-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ, জেনেনিন কি বললেন নেত্রী?

আগামীকাল, সোমবার ধর্মতলায় তৃণমূলের বার্ষিক শহিদ দিবসের সমাবেশ। তার ঠিক একদিন আগে, রবিবার সন্ধ্যায় সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ধর্মতলা চত্বরে এলেন তৃণমূল সুপ্রিমো এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভামঞ্চ এবং আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলার পর, তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, যেখানে বাম এবং বিজেপি উভয়কেই একযোগে আক্রমণ শানান। একই সাথে, কলকাতা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশিকার প্রেক্ষিতে যানজট এড়াতে দল যে প্রস্তুত, সেই বার্তাও দেন।
গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব দাবি মুখ্যমন্ত্রীর:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে সিপিএম আমলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, সিপিএমের শাসনামলে রাজ্যে গণতন্ত্র বলে কিছু ছিল না এবং মানুষ ভোট দিতে পারত না। “আজকে যে গণতন্ত্র আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, সেটা সিপিএমের আমলে ছিল না। আগে মানুষ ভোট দিতে পারত না। সমস্ত বিল্ডিংয়ে তালা দিয়ে রাখা হত। গ্রামেও কাউকে ভোট দিতে দিত না,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাইয়ের মর্মান্তিক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে পুলিশি গুলিতে ১৩ জন প্রাণ হারান এবং প্রায় ২০০ জন আহত হন। মুখ্যমন্ত্রী এই আন্দোলনকে ‘নো আইডি, নো ভোট’ এর দাবি আদায়ের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন, যার ফলে টি.এন. সেশনের নির্বাচন কমিশনার হওয়ার পর মানুষ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পায়। তিনি বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যে কাউকে ভোট দিতে দেয় না। সিপিএমের আমলে সবাই দেখেছেন। আর আজকে টিভিতে বসে বড় ভাষণ দিচ্ছে। লড়াইটা লড়েছিল আমাদের সহকর্মীরা মাঠে ময়দানে। সমস্ত শহিদদের স্মরণে মা মাটি দিবস, গণতন্ত্র দিবস পালন করি আমরা।”
হাইকোর্টের নির্দেশ ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূলের ২১শে জুলাই সমাবেশ ঘিরে মধ্য কলকাতায় যানজট এবং একটি নির্দিষ্ট দলকে ধর্মতলায় রাজনৈতিক কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাস নির্দেশ দিয়েছে যে, কলকাতার রাস্তা বন্ধ করে, যানজট সৃষ্টি করে বা বাস তুলে নিয়ে ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশ করা যাবে না। এমনকি ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ভবিষ্যতে এই সভা হবে কিনা, তা নিয়েও শুনানি হবে বলে আদালত জানিয়েছে। কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে যানজট এড়ানোর মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে হেঁটে মিছিল করে ধর্মতলায় সমাবেশস্থলে আসা যাবে এবং অফিস টাইমের আগেই (সকাল ৯টার আগে) মিছিলগুলি সমাবেশস্থলে পৌঁছতে হবে। যদি কোনো মিছিল ৯টার আগে পৌঁছতে না পারে, তবে যে জায়গায় থাকবে সেখানেই মিছিল থামিয়ে দিতে হবে।
এই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার কঠোর জবাব দেন। তিনি বলেন, “৩৩ বছর ধরে এই জায়গায় প্রোগ্রাম হয়। এখানেই অনেকে লুটিয়ে পড়েছিলেন। প্রাণ চলে গিয়েছিল অনেকের। রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছিল। অনেকের এটাও নিয়েও আপত্তি আছে। নবান্ন অভিযান করলে আমাদের তো আপত্তি থাকে না। আমরা তো পাল্টা প্রোগ্রাম করি না।” তিনি বিরোধীদের “কথায় কথায় চোর ডাকাত বলা” এবং “বাংলার ভাষীদের ওপর অত্যাচার” চালানোর অভিযোগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “২১শে জুলাই চিরকাল চলবে, কোনোদিন বন্ধ হবে না।”
সোমবারের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তৃণমূল নেতৃত্ব এবং কলকাতা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে যানজট এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে এই সমাবেশে, যেখানে দল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তাদের রাজনৈতিক বার্তা দেবে এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।