পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন সূর্যোদয়। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নে এখন বিজেপি সরকারের রাজত্ব। সোমবার রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে পা রাখলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সকাল থেকেই নবান্ন চত্বরে ছিল সাজো সাজো রব। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নবান্ন সভাঘরে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় গার্ড অফ অনার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর আজই ছিল শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম মন্ত্রিসভা বা ক্যাবিনেট বৈঠক। আর সেই বৈঠক ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।
নবান্নে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা:
সোমবার সকাল থেকেই নবান্নের নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গোটা প্রশাসনিক সদর দপ্তর মুড়ে ফেলেছিলেন। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পাশাপাশি আজই জেলার সাধারণ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই রাজ্যের প্রশাসনিক রদবদল এবং নতুন সরকারের কাজের দিশা ঠিক করা হবে। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক:
আজকের কর্মসূচির সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিকেল ৫টার প্রশাসনিক বৈঠক। নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি (DG), এডিজি (ADG), আইজি (IG) থেকে শুরু করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং হাওড়ার পুলিশ কমিশনার। এ ছাড়াও সমস্ত জেলার এসপি (SP) এবং জিআরপি-র শীর্ষ আধিকারিকদেরও এই বৈঠকে তলব করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকারের আমলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা কীভাবে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং অপরাধ দমনে কী ভূমিকা নেওয়া হবে, তার কড়া দাওয়াই দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপি দফতরে ২০৭টি পদ্মে অভ্যর্থনা:
নবান্নের কাজ সেরে আজই সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দফতরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেও প্রস্তুতি তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানাতে মঞ্চ সাজানো হয়েছে ২০৭টি পদ্ম ফুল দিয়ে। ভারতমাতা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করবেন তিনি। এরপর রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও দলের সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিতিতে একটি সাংগঠনিক বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি। সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখাই হবে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।
এক নজরে নতুন সরকার:
গত ৯ মে, শনিবার ২৫শে বৈশাখের পুণ্যলগ্নে ব্রিগেডের জনজোয়ারে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু এবং অশোক কীর্তিনিয়া। প্রায় ৫৫ বছর পর জেলা থেকে কোনও মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। দায়িত্ব নিয়েই শুভেন্দু বার্তা দিয়েছিলেন, “কথা কম, কাজ বেশি।” এখন দেখার, আজকের ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কোন কোন বড় প্রকল্পের ঘোষণা আসে এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কী কী বড় রদবদল করেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।





