বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার প্রশাসনিক স্তরেও শুরু হলো আমূল পরিবর্তন। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় আসার পরই সরকারি প্রতীক থেকে ‘বিশ্ববাংলা’ লোগো সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নতুন বিজেপি সরকার। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি দপ্তর, প্রকল্প এবং নথিপত্রে যে বিশেষ ‘ব’ লোগোটি ব্যবহার করা হতো, তা এখন অতীত হতে চলেছে।
বিজেপি নেতা তাপস রায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি শেয়ার করেছেন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আনুষ্ঠানিক রাজ্য প্রতীক হিসেবে এখন থেকে পুনরায় জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে সমস্ত সরকারি নথিপত্র, চিঠিপত্র এবং পরিচয়জ্ঞাপক স্থানে অশোকস্তম্ভই হবে পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র সরকারি প্রতীক।
কেন এই বদল?
তৃণমূল জমানায় সমস্ত সরকারি চিঠির শীর্ষে ‘ব’ নকশার লোগো থাকত এবং তার ওপর ছোট করে অশোকস্তম্ভের ছবি থাকত। স্কুলের ইউনিফর্ম থেকে শুরু করে সরকারি বাসের গায়েও এই নীল-সাদা লোগো ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘তৃণমূলীকরণ’ বন্ধ করার ডাক দিয়েছিল। প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি পরিচয়কে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের ভাবধারা বা ব্যক্তিগত লোগোর উর্ধ্বে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।
লোগোর কপিরাইট ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:
উল্লেখ্য, এই ‘বিশ্ববাংলা’ বা ‘ব’ লোগোটির নকশা করেছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন যে, রাজ্য সরকার যতদিন চাইবে এটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে যদি সরকার এটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়, তবে এই লোগোটির সমস্ত কপিরাইট এবং স্বত্ব পুনরায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেই ফিরে যাবে। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে লোগোটি এখন ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হতে চলেছে।
এখন থেকে সচিবালয় থেকে শুরু করে গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যন্ত— সর্বত্রই শুধুমাত্র জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভ সম্বলিত লোগো ব্যবহৃত হবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশাসন বার্তা দিতে চাইছে যে, সরকারি কাজ এবার থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই চলবে।





