“ব্যক্তি শুভেন্দু অধিকারী বদলায়নি, বদলায়নি তাঁর লড়াইয়ের তেজ।” আগামী বিধানসভা নির্বাচনের দামামা যেন আগাম বাজিয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০০৪ সালের সেই রাজনৈতিক উত্তাল সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানালেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তাঁকে সেই একই মেজাজে দেখতে পাবে বাংলা।
কেন ২০০৪-এর প্রসঙ্গ?
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত। ২০০৪-০৫ সাল ছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্ব এবং বাম জমানার পতনের শুরুর সময়। শুভেন্দু বোঝাতে চেয়েছেন:
লড়াকু ইমেজ: তিনি সেই সময় যেভাবে দাপটের সঙ্গে ময়দানে লড়েছিলেন, আজও বিজেপির পতাকা হাতে সেই একইভাবে লড়াই করছেন।
অপরিবর্তিত আদর্শ: দল বদলালেও তাঁর লড়াইয়ের পদ্ধতি এবং দায়বদ্ধতা সাধারণ মানুষের প্রতি একই আছে।
টার্গেট ২০২৬: ২০২৬ সালে তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে তিনি ঠিক ততটাই মরিয়া, যতটা তিনি একসময় বামেদের উৎখাত করতে ছিলেন।
বিরোধী শিবিরের ওপর চাপ সৃষ্টি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই ‘২০০৪ বনাম ২০২৬’ তত্ত্ব আসলে তৃণমূলকে একটি কড়া বার্তা। তিনি পরোক্ষভাবে মনে করিয়ে দিতে চাইছেন যে, যে কৌশলে তিনি একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় আনতে সাহায্য করেছিলেন, সেই একই অভিজ্ঞতায় এবার তিনি বিজেপিকে সাফল্য এনে দিতে বদ্ধপরিকর।
শুভেন্দুর হুঙ্কার: “আমাকে ভয় দেখিয়ে বা ধমকিয়ে লাভ নেই। ২০০৪ সালে যে শুভেন্দু রাজপথে নেমে লড়াই করত, ২০২৬ সালেও বাংলার মানুষ সেই এক শুভেন্দুকে দেখতে পাবে। লড়াই হবে সেয়ানে সেয়ানে।”
তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। তাদের দাবি, “২০০৪ সালে তিনি যে লড়াই করেছিলেন, তা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতি হিসেবে। একা লড়ার ক্ষমতা তাঁর নেই, তাই পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে প্রাসঙ্গিক থাকতে চাইছেন।”
পয়লা বৈশাখের আবহে শুভেন্দুর এই ‘স্পেশাল’ বার্তা বাংলার রাজনীতির আঙিনায় নতুন করে জলঘোলা শুরু করেছে। আগামী দিনে এই সংঘাতের মাত্রা যে আরও বাড়বে, তার ইঙ্গিত তিনি দিয়েই রাখলেন।





