এতদিন কেবল মুখে প্রতিশ্রুতি দিলেও, এবার বাস্তবেই ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি শুরু করে দিল বিজেপি। বুধবার কলকাতায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্ডের উদ্বোধন করে গেরুয়া শিবির বুঝিয়ে দিল, এবারের নির্বাচনে তাঁদের তুরুপের তাস হতে চলেছে ‘মহিলা ভোট’। তৃণমূলের ১০০০-১২০০ টাকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিজেপি দিচ্ছে মাসে ৩০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার গ্যারান্টি।
ইস্তাহারের ধোঁয়াশা কাটালেন শুভেন্দু-স্মৃতি
বিজেপির সংকল্প পত্রে এই টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কিছুটা ধোঁয়াশা ছিল। এদিন সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে স্পষ্ট করা হলো:
কার্ড বিলি: এই কার্ডটি মূলত একটি গ্যারান্টি কার্ড। ক্ষমতায় আসার পর এই কার্ডধারীরাই প্রথম অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০০০ টাকা পাবেন।
সরাসরি সুবিধা: কোনো কাটমানি নয়, সরাসরি ডিবিটি (DBT) মোডে টাকা পৌঁছে যাবে মা-বোনেদের অ্যাকাউন্টে।
সকলের জন্য: জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলার সমস্ত বয়স্ক ও যোগ্য মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম মাতৃশক্তি ভরসা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জনপ্রিয়তাই গত লোকসভা ভোটে তৃণমূলকে ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। সেই জনপ্রিয়তাতেই ধস নামাতে এবার ৩ গুণ বেশি অঙ্কের টোপ দিল বিজেপি। স্মৃতি ইরানির কথায়, “বাংলার মহিলাদের কেবল সংসার চালানোর সাহায্য নয়, আমরা আত্মনির্ভর করতে চাই।” অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, “মমতা দিদি যা দিচ্ছেন তার থেকে আমরা ৩ গুণ বেশি দেব, এটাই মোদী জির গ্যারান্টি।”
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এটা স্রেফ ভাঁওতাবাজি। নির্বাচনের আগে কার্ড বিলি করে মানুষের ভোট কেনার চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলার মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে খুশি, বিজেপির এই ‘ভরসা’ আদতে ধোঁকা।”
বিশেষ হাইলাইট: এদিন প্রতিকী হিসেবে ৫ জন মহিলার হাতে এই কার্ড তুলে দিয়ে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এবার ব্লক স্তরে এই কার্ড বিলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিচুতলার কর্মীদের।





