সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে দেওয়ালে এখন একটাই আতঙ্ক— আর মাত্র কয়েকটা মাস, তারপরই নাকি ধ্বংস হয়ে যাবে আমাদের এই চেনা পৃথিবী! দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসেই নাকি মানব সভ্যতার শেষ দিন ঘনিয়ে আসছে। এই চাঞ্চল্যকর খবর ভাইরাল হতেই বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক এবং তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি আগামী নভেম্বরে ধ্বংস হতে চলেছে পৃথিবী? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক রহস্য? আসুন জেনে নেওয়া যাক আসল সত্যটা কী।
১৯৬০ সালের সেই রহস্যময় গবেষণা!
হঠাৎ করে ধেয়ে আসা এই আতঙ্কের উৎস কিন্তু আজকের নয়, বরং ৬৬ বছর পুরনো! ১৯৬০ সালে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক জার্নাল ‘সায়েন্স’ (Science)-এ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। বিখ্যাত পদার্থবিদ হেইঞ্জ ফন ফোয়ার্স্টার (Heinz von Foerster) এবং তাঁর দল একটি জটিল গাণিতিক সূত্রের ওপর ভিত্তি করে দাবি করেছিলেন যে, ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পৃথিবীর জনসংখ্যা এমন এক চরম সীমায় পৌঁছাবে, যা এই গ্রহ আর বহন করতে পারবে না। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়েছিল ‘ডুমসডে’ (Doomsday) বা কেয়ামতের দিন।
কী বলা হয়েছিল সেই গাণিতিক সূত্রে?
জনসংখ্যার বিস্ফোরণ: ১৯৬০ সালের ওই গবেষণায় কোনো উল্কাপাত বা মহাজাগতিক বিপর্যয়ের কথা বলা হয়নি। বলা হয়েছিল, যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে, তাতে ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে মানুষের সংখ্যা অসীম হয়ে যাবে।
খাদ্য ও বাসস্থানের সংকট: জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই চড়া গ্রাফের কারণে মানুষ নিজেদের তৈরি প্রযুক্তির গ্যাঁড়াকলেই নিজে ধ্বংস হয়ে যাবে।
কী বলছেন বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা?
এই দাবি সোশ্যালে ভাইরাল হতেই আসরে নেমেছেন বর্তমান যুগের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা আমজনতাকে আশ্বস্ত করে সাফ জানিয়েছেন, ভয়ের কোনো কারণ নেই, ২০২৬-এর নভেম্বরে পৃথিবী ধ্বংস হচ্ছে না। বিজ্ঞানীদের মতে, ১৯৬০ সালের ওই গণনাটি ছিল একটি নিখাদ ‘গাণিতিক মডেল’ (Mathematical Model), যা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। গত কয়েক দশকে বিশ্বের জন্মহার অনেকটাই কমেছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ধীর হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা মাত্র ৮.৫ কোটির আশেপাশে থাকবে, যা কোনোভাবেই ‘অসীম’ নয়।
মহাকাশ ও বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা: “১৯৬০ সালের প্রযুক্তি এবং ডেটা ব্যবহার করে ওই ভবিষ্যৎবাণী করা হয়েছিল। বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে খাদ্যের জোগান এবং জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত। তাই ২০২৬ সালের নভেম্বরে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন।”
সুতরাং, সোশ্যাল মিডিয়ার এই ‘ডুমসডে’র খবরে কান দিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। ২০২৬-এর নভেম্বর আসবে এবং চলেও যাবে, আমাদের পৃথিবী থাকবে আগের মতোই সুরক্ষিত। এই ধরণের ভাইরাল খবর নিয়ে আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে আমাদের জানান!





