১ লাখে ১৪ কোটি! অনিল আগরওয়ালের এই স্টকে ভাগ্যবদল বিনিয়োগকারীদের, আপনার পোর্টফোলিওতে আছে তো?

শেয়ার বাজারের ওঠানামা আর অনিশ্চয়তার মাঝেও কিছু স্টক এমন থাকে, যা বিনিয়োগকারীদের রাতারাতি কোটিপতি করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। একেই দুনিয়া চেনে ‘মাল্টিব্যাগার স্টক’ হিসেবে। সম্প্রতি তেমনই এক রূপকথার মতো রিটার্ন দিয়ে বিনিয়োগকারীদের চমকে দিয়েছে অনিল আগরওয়ালের মালিকানাধীন সংস্থা হিন্দুস্তান জিঙ্ক লিমিটেড (Hindustan Zinc Limited)। পরিসংখ্যান বলছে, এই স্টকে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ যাঁদের ছিল, আজ তাঁদের হাতে রয়েছে টাকার পাহাড়।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ বছরে এই সংস্থাটি তার বিনিয়োগকারীদের অবিশ্বাস্য ১৪০০ গুণ রিটার্ন দিয়েছে। হিসাবটা সহজভাবে করলে দাঁড়ায়—যদি কোনো ব্যক্তি ২০০২ সালে এই কোম্পানিতে মাত্র ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ধৈর্য ধরে বসে থাকতেন, তবে ২০২৬ সালের মে মাসে এসে সেই টাকার বাজারমূল্য দাঁড়াত প্রায় ১৪ কোটি টাকা! গত দুই দশকে সংস্থাটি বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হারে (CAGR) প্রায় ৩৩ শতাংশ রিটার্ন নিশ্চিত করেছে।

হিন্দুস্তান জিঙ্ক একসময় সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা ছিল। ২০০২ সালে বিলগ্নিকরণের সময় ভারত সরকার এই কোম্পানির ২৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব ৪৪৫ কোটি টাকার বিনিময়ে অনিল আগরওয়ালের স্টারলাইট ইন্ডাস্ট্রিজের (বর্তমানে বেদান্ত গ্রুপ) হাতে তুলে দেয়। সেই সময় থেকেই সংস্থার ভোলবদল শুরু হয়। আজ এই সংস্থাটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রূপো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শুধু স্টকের দাম বাড়াই নয়, লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই সংস্থাটি অতুলনীয়। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের শুরুতেই প্রতি শেয়ারে ১১ টাকা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে তারা।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে সঠিক স্টকে বিনিয়োগ এবং ধৈর্যই হলো শেয়ার বাজারে সাফল্যের চাবিকাঠি। হিন্দুস্তান জিঙ্ক তার জ্বলন্ত উদাহরণ। তবে মনে রাখবেন, শেয়ার বাজারের বিনিয়োগ সর্বদা ঝুঁকিসাপেক্ষ।

সতর্কীকরণ: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি সাপেক্ষ। বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। এই প্রতিবেদনটি কোনোভাবেই বিনিয়োগের প্রত্যক্ষ পরামর্শ নয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy