১ লক্ষ টাকার মাথার দাম! বিয়ের মণ্ডপে বর হত্যায় অভিযুক্ত ভোলে রাজভরের আত্মসমর্পণ; কী হবে এরপর?

জৌনপুরের চাঞ্চল্যকর বর আজাদ বিন্দ হত্যা মামলার তদন্তে এল নতুন মোড়। ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষিত প্রধান অভিযুক্ত ভোলে রাজভর বুধবার জৌনপুরের জেলা ও দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত অভিযুক্তকে ১৪ দিনের জন্য বিচার বিভাগীয় হেফাজতে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: গত ১ মে, বিয়ের পোশাকে বিয়ের মণ্ডপে যাওয়ার পথে গুলি করে হত্যা করা হয় আজাদ বিন্দকে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল শোলে রাজভর, ভোলে রাজভর, প্রদীপ বিন্দ এবং রবি যাদবের। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ প্রধান অভিযুক্তদের ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় নিহতের বোন সৌম্য বিন্দ ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হন। তিনি সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন।
পুলিশি এনকাউন্টার ও বিতর্ক: এরই মধ্যে পুলিশের এনকাউন্টারে অভিযুক্ত রবি যাদবের মৃত্যু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহতের বোন সৌম্য বিন্দ পুলিশের এই পদক্ষেপকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে কটাক্ষ করেন এবং রবির পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন। তিনি দাবি করেন যে, পুলিশ আসল অপরাধীদের ছেড়ে কেবল গরিবদের টার্গেট করছে।
হাইকোর্টের স্বস্তি ও আত্মসমর্পণ: এনকাউন্টারের ভয়ে ভোলে রাজভরের পরিবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। আদালত ভোলে রাজভরকে আত্মসমর্পণের জন্য ৬০ দিন সময় দেয় এবং তাকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার জৌনপুরের এসিজেএম-২ আদালতে হাজির হন অভিযুক্ত ভোলে রাজভর। তার আইনজীবী জানান, আত্মসমর্পণ করলেও আপাতত জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। এখন হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানানো হবে।
এখনও পলাতক মূল অভিযুক্ত: ভোলে রাজভর ধরা পড়লেও, এই হত্যা মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রদীপ বিন্দ এখনও পলাতক। পুলিশের তরফ থেকে তার ওপরও ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। নিহতের বোন সৌম্য বিন্দ এখনো তার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রদীপ বিন্দকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।