ফাঁকা বাগানে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর রহস্যমৃত্যু! সিঁথিতে লিপস্টিক, পায়ে বিছিয়া—কার এ সাজ?

উত্তরপ্রদেশের কানপুর জেলা থেকে একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পতারা এলাকার তিলসড়া মোড়ের কাছে একটি বাগান থেকে ২৫ বছর বয়সি এক অবিবাহিত দলিত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র হাঙ্গামা শুরু হয়েছে। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, মৃতার দেহটি অদ্ভুতভাবে সাজানো ছিল—তার সিঁথি লাল লিপস্টিক দিয়ে রাঙানো, পায়ে নতুন বিছিয়া এবং কপালে বড় টিপ পরানো ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুর কারণ বিষক্রিয়া। এই ঘটনায় মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দুজন প্রেমিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও কল ডিটেল রেকর্ড (সিডিআর) খতিয়ে দেখে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মৃতার বাবা গোলু পান্ডে (৫০) নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার খেত বর্গা নিয়ে চাষ করতেন এবং সেই সূত্রে গোলুর সঙ্গে তরুণীর ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। গোলু ওই তরুণীকে কানপুর মেট্রোয় চাকরি পাইয়ে দিয়ে রামাদেবীর একটি ভাড়া বাড়িতে রেখেছিলেন। অন্যদিকে, ফতেপুরের বাসিন্দা প্রঞ্জুল পাল (২৪) নামের এক যুবকের সঙ্গেও তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন মৃতার সঙ্গে প্রঞ্জুলের প্রায় ২৩ মিনিট এবং গোলুর সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট কথা হয়েছিল। জেরার মুখে প্রঞ্জুল জানিয়েছে যে, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তরুণী তাকে বিয়ের জন্য তীব্র চাপ দিচ্ছিল, কিন্তু সে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, গত ১১ জুলাই গর্ভধারণের কথা প্রকাশ পাওয়ার পর পরিবারের লোকজনও তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল, যার ফলে সে চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিল। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচন করতে এবং গর্ভস্থ সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে ধৃত দুই অভিযুক্তের ডিএনএ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।