১ আগস্ট থেকে পকেটে টান নাকি বড় স্বস্তি? বদলে যাচ্ছে রেলের তৎকাল টিকিট থেকে ব্যাংকিং ও রান্নার গ্যাসের নিয়ম!

আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ভারতীয় রেলের তৎকাল টিকিট বুকিং প্রক্রিয়ায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। এতদিন কাউন্টারে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে তৎকাল টিকিট কাটার যে ঝামেলা পোহাতে হতো, তা থেকে যাত্রীদের মুক্তি দিতে নতুন ব্যবস্থা চালু করছে রেলওয়ে। এবার থেকে ঠিক যে সময়ে তৎকাল বুকিং শুরু হবে, কাউন্টার থেকেই সঙ্গেই টোকেন দেওয়া শুরু হবে। এর ফলে কাউন্টারে উপচে পড়া ভিড় যেমন কমবে, তেমনই যাত্রীদের মূল্যবান সময়ও অনেকটাই বাঁচবে। অতীতে টোকেন সংগ্রহ এবং টিকিট কাটার জন্য আলাদা আলাদা সময়ে কাউন্টারে ছোটাছুটি করতে হতো, যা এখন অতীত হতে চলেছে।

পাশাপাশি, আর্থিক ক্ষেত্রে জালিয়াতি রুখতে আধার-সংক্রান্ত কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় আসছে কঠোর ও আধুনিক পরিবর্তন। ১ আগস্ট থেকে ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলি সেন্ট্রাল কেওয়াইসি ২.০ (CKYC 2.0) বা সিকিওয়াইসি ২.০ সিস্টেম সফলভাবে চালু করতে চলেছে। এই অভিনব ব্যবস্থায় কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময়ে বা পুরনো কেওয়াইসি আপডেট করার সময়ে গ্রাহকের সরাসরি সম্মতিক্রমে সেন্ট্রাল রেজিস্ট্রি থেকে সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকদের বারবার একই নথি জমা দেওয়ার ঝঞ্ঝাট কমবে, তেমনই অন্যদিকে আর্থিক জালিয়াতি ও প্রতারণার ফাঁদ কঠোরভাবে রোধ করা সম্ভব হবে।

সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজেট ও গৃহস্থালির খরচের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে প্রতি মাসের প্রথম দিনেই তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম ঘোষণা করে থাকে। সেই নিয়ম মেনেই আগামী ১ আগস্ট দেশজুড়ে গার্হস্থ্য এবং বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামে বড়সড় পরিবর্তন হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদি রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পায়, তবে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেট আরও কিছুটা সংকুচিত হবে, আর যদি গ্যাসের দাম কমে, তবে তা মুদ্রাস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য অনেকখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে আসবে।

শুধু রান্নার গ্যাস বা রেলের টিকিট নয়, ১ আগস্ট থেকে বহু রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক তাদের ক্রেডিট কার্ডের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে। কার্ডের রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্জনের শর্ত, বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি, বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস চার্জ বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এই বদল আসতে পারে। পাশাপাশি, বেশ কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি-র সুদের হারেও রদবদল করতে পারে। বিশেষ করে রিজার্ভ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটির বৈঠকে রেপো রেট সংক্রান্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তার সরাসরি প্রভাব গৃহঋণ, গাড়ি ঋণের মাসিক ইএমআই এবং সাধারণ মানুষের এফডি সুদের ওপর গিয়ে পড়বে।

করদাতাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সতর্কবার্তা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য সাধারণ আইটিআর-১ (ITR-1) এবং আইটিআর-২ (ITR-2) ফাইল করার শেষ নির্ধারিত তারিখ ছিল ৩১ জুলাই ২০২৬। যে সমস্ত করদাতা নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে নিজেদের ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের এখন থেকে চড়া হারে জরিমানা বা পেনাল্টি দিতে হতে পারে। এমনকি এর ফলে তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু কর ব্যবস্থার আকর্ষণীয় সুবিধাও হারাতে পারেন। তবে যাঁদের ক্ষেত্রে আইটিআর-৩ (ITR-3) এবং আইটিআর-৪ (ITR-4 নন-অডিট) প্রযোজ্য, তাঁদের রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা রয়েছে আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত। কোনো কারণে অডিট কেস হলে সেই ডেডলাইন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এছাড়া কোনো করদাতা সময়মতো রিটার্ন ফাইল করতে না পারলে তাঁরা বিলেটেড রিটার্ন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ এবং সংশোধিত রিটার্ন আগামী বছরের ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty