১৮ সন্তান ও ২ স্ত্রী থাকতেও পরকীয়া! উত্তরপ্রদেশে প্রেমিকের বীভৎস পরিণতিতে কাঁপছে দেশ!

উত্তরপ্রদেশের এক গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া একটি বস্তাবন্দি মৃতদেহকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে পরকীয়া, বিশ্বাসভঙ্গ এবং এক ভয়াবহ অপরাধের কাহিনী। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এমন এক তথ্য, যা শুনে তদন্তকারী আধিকারিকদেরও চক্ষু চড়কগাছ। মৃত ব্যক্তি কেবল বিবাহিতই ছিলেন না, তার ছিল দুই স্ত্রী এবং ১৮ জন সন্তান। এত বড় এক সংসার সামলানোর পরেও তিনি লিপ্ত হয়েছিলেন এক অবৈধ প্রেমে, আর সেই প্রেমই শেষ পর্যন্ত তার কাল হয়ে দাঁড়াল।
ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে। গ্রামবাসীরা রাস্তার ধারে একটি সন্দেহভাজন বস্তা পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাটি খুলতেই চমকে ওঠে। ভেতরে ছিল এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। দ্রুত শনাক্তকরণের কাজ শুরু হলে জানা যায়, ওই ব্যক্তি স্থানীয় এলাকারই বাসিন্দা। তবে তার ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। প্রতিবেশীরা জানান, ওই ব্যক্তির দুই স্ত্রী এবং বিশাল এক সংসার রয়েছে। ১৮ জন ছেলেমেয়েকে নিয়ে অভাব-অনটনের সংসার হলেও তিনি বাইরে এক মহিলার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে চরম প্রতিহিংসা। হয় ওই ব্যক্তির পরকীয়ার কথা তার পরিবার জেনে ফেলেছিল, অথবা তার প্রেমিকার পরিবারের পক্ষ থেকে এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মৃতদেহের আঘাতের চিহ্ন দেখে মনে করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে বা ভোঁতা কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ বর্তমানে মৃত ব্যক্তির দুই স্ত্রী এবং সন্দেহভাজন প্রেমিকার বয়ান রেকর্ড করছে। ১৮ জন সন্তানের ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। কেন একজন ব্যক্তি এত বড় দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এই পথে পা বাড়ালেন, তা নিয়ে যেমন চর্চা চলছে, তেমনই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আইন-শৃঙ্খলার ওপরেও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।