১৮ বছর হলেই কি সব অপরাধ ক্ষমা? নিট আন্দোলন নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের

NEET পরীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের জেরে রাজনৈতিক পারদ ক্রমেই চড়ছে। এই উত্তপ্ত আবহেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিলেন বর্ষীয়ান নেতা ও মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, নিট আন্দোলনের আড়ালে যারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করেছে কিংবা জেনেশুনে অপরাধমূলক কাজ করেছে, তাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না। দেশের প্রচলিত আইন মেনেই এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে ১৮ বছরের কম বয়সি পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশকে কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “১৮ বছর হলেই কি সব অপরাধ মাফ হয়ে যায়? যারা নিট আন্দোলনের নাম করে পুলিশকে পেটিয়েছে, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই।” তিনি আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে আদালতে আবেদন জানিয়েছেন যাতে এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িত অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পায়।
শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সকলেরই রয়েছে, কিন্তু সেই প্রতিবাদের নামে হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না বলে স্পষ্ট মত প্রকাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে সারা দেশেই ছাত্র সমাজ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে। পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলন কোথাও কোথাও চরম হিংসাত্মক রূপ নেয়। রাজপথে অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ ওঠে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য মূলত সেই অস্থির প্রেক্ষাপটকেই সামনে রেখে এসেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, “ছাত্রদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা যথেষ্ট চিন্তিত ও সংবেদনশীল। কিন্তু কিছু অসাধু লোক যদি এই ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শিক্ষা মহল এবং ছাত্র সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদল ছাত্র ও অভিভাবক মনে করছেন, নাবালকদের আইনি সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণ মানবিক। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে দমন করতেই এই কড়া অবস্থান। তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে ও দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এই কঠোর মনোভাব অত্যন্ত জরুরি।