১৭০ টাকা ‘গায়েব’! ভোট কর্মীদের ভাতার টাকা কম আসতেই তুলকালাম; চরম উত্তেজনায় ব্যাহত হতে পারে নির্বাচন?

লোকসভা নির্বাচনের আবহে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এল। অভিযোগ, নির্বাচনের ডিউটিতে থাকা ভোট কর্মীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ টাকা থেকে বড়সড় অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ভাতার তুলনায় ১৭০ টাকা কম পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভোট কর্মীরা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, তাঁরা নির্বাচন প্রক্রিয়া বয়কট বা ভোট বাতিলের পর্যন্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ঠিক কী ঘটেছে? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোট কর্মীদের থাকা-খাওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ বরাদ্দ থাকে। কিন্তু ভোট কর্মীদের দাবি, তাঁদের হাতে যে পরিমাণ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে, তা সরকারি হিসেবের চেয়ে অনেক কম। কর্মীদের অভিযোগ, জনপ্রতি ১৭০ টাকা করে কম দেওয়া হয়েছে। এই দুর্মূল্যের বাজারে খাবারের এই বরাদ্দ হ্রাসে চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

বিক্ষোভ ও হুঁশিয়ারি: এদিন বিকেলের পর থেকেই বিভিন্ন বুথে এবং ডিসিআরসি (DCRC) সেন্টারে ভোট কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। তাঁদের দাবি:

  • খাবারের নির্ধারিত টাকা অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গভাবে মেটাতে হবে।

  • কেন টাকা কম দেওয়া হলো, তার স্পষ্ট জবাবদিহি চাই।

  • টাকা না মেটালে তাঁরা ভোট সংক্রান্ত কোনো কাজ করবেন না এবং প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিলের পথে হাঁটবেন।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া: খবরটি জানাজানি হতেই প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই টাকার গরমিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

ভোটের ওপর প্রভাব: ভোট কর্মীদের এই কড়া অবস্থানে সাধারণ ভোটারদের মনেও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। যদি কর্মীরা সত্যিই কাজ বন্ধ করে দেন, তবে নির্ধারিত সময়ে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন। টাকার এই ‘কাঁচি’ কি কোনো বড় দুর্নীতির ইঙ্গিত, নাকি নিছকই প্রশাসনিক ভুল? উত্তর খুঁজছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy