২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদহের মানিকচকে দাঁড়িয়ে বড়সড় রাজনৈতিক বোমা ফাটালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে একদিকে যেমন তৃণমূল জমানার ১৫ বছরকে আক্রমণ করলেন, তেমনই শোনালেন নিজের এক সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা।
সেই ঐতিহাসিক সাক্ষ্য ও শুভেন্দুর দাবি: বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এক চাঞ্চল্যকর স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন, “২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমি মানিকচকে এসেছিলাম। সেই সময় কী কী হয়েছিল, কীভাবে মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল—সবকিছুর সাক্ষী আমি স্বয়ং।” তাঁর দাবি, সেই সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো গত ১০ বছরেও পূরণ করেনি রাজ্য সরকার, যা তিনি ভেতর থেকে দেখেছেন।
শুভেন্দুর নিশানায় মৌলবাদ ও বাংলাদেশ ইস্যু: এদিন মানিকচকের মাটি থেকে কড়া মেরুকরণের সুরও শোনা যায় শুভেন্দুর গলায়। তাঁর ভাষণের প্রধান দিকগুলো হলো:
মৌলবাদ বিরোধী ডাক: তিনি স্পষ্ট জানান, “মৌলবাদীদের হাত থেকে বাংলাকে বাঁচাতে হবে। আমরা কেউ ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ চাই না।”
সনাতনী ঐক্য: হিন্দুদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “সনাতনীরা ভাগ হলে কিন্তু বড় বিপদ হবে।”
রাষ্ট্রবাদী মুসলিম: তিনি দাবি করেন, বিজেপি বিরোধী নয় বরং রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের পক্ষেই কথা বলে।
ভাতা ও জুন মাসের ভবিষ্যৎবাণী: জনগণের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু এক রহস্যময় অথচ আশাব্যঞ্জক বার্তা দেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা ভাতার কথা টেনে তিনি বলেন, “এখন ২, ২, ২ (২০০, ২০০, ২০০) করে পাচ্ছেন তো? জুন মাস থেকে ৩, ৩, ৩ (৩০০, ৩০০, ৩০০) করে পাবেন।” বিরোধী দলনেতার এই আশ্বাসের পর সভায় উপস্থিত জনতার মধ্যে তুমুল হাততালি এবং উল্লাস দেখা যায়।
তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালকে ‘ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়ে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার গড়ার আহ্বান জানান। শুভেন্দুর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর মালদহের রাজনীতিতে এখন চরম চাঞ্চল্য।





