১৬টি FIR মামলার জট কাটিয়ে বড় নির্দেশ বিচারপতির, হাইকোর্টে স্বস্তি অভিষেকের

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চলা আইনি লড়াইয়ে বড়সড় স্বস্তি মিলল কলকাতা হাইকোর্টে। রাজ্যের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর (FIR) বাতিল করা এবং পুলিশি হেনস্থা বা কঠোর পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সেই মামলার দীর্ঘ শুনানিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো রকম জবরদস্তিমূলক বা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না। ফলে নির্দিষ্ট এই সময়সীমার মধ্যে তাঁর আইনি সুরক্ষার বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে এই সুরক্ষার বা রক্ষাকবচের পাশাপাশি আদালত কিছু নির্দিষ্ট শর্তও আরোপ করেছে। বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, আইনি সুরক্ষা পেলেও তৃণমূল সাংসদকে তদন্তের প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ যদি তাঁকে তলব করে, তবে তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দিতে হবে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার আগে পুলিশকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা বা দুই দিন আগে নোটিশ পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে আদালতের নজরে এসেছে যে অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তবে বর্তমান শুনানিটি মূলত এর মধ্যে তিনটি নির্দিষ্ট এফআইআর-এর পরিধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন যে এই তিনটি মামলার ক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেরা করার কোনো প্রয়োজন নেই।
শুনানি চলাকালীন আদালতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। অভিষেক নিজেই অভিযোগ করেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হলেও সেগুলির বিষয়ে তিনি বা তাঁর আইনি টিম আগে থেকে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন না। এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকেও এফআইআর ও অভিযোগের মূল কপি তাঁকে সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, পুলিশকে অবিলম্বে সমস্ত এফআইআর এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরবরাহ করতে হবে। আগামী ২৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে। ওই দিন বা তার আগেই পুলিশকে তদন্তের সার্বিক অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, অভিষেকের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও অত্যন্ত ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশের ভিত্তিতে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশ যাওয়ার আইনি অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্ট সেই প্রসঙ্গটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের সেই পূর্বের নির্দেশ মেনেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে পারবেন। তবে আদালতের বেঁধে দেওয়া সমস্ত নিয়ম ও শর্ত তাঁকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রায়ের ফলে আইনি জট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেলেন প্রভাবশালী এই তরুণ রাজনৈতিক নেতা।