প্রায় ১৫ বছর ধরে আলাদা থাকছিলেন স্বামী-স্ত্রী, অথচ বিবাহবিচ্ছেদে রাজি ছিলেন না স্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করে ওই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। রায় দিতে গিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানাল, ওই দম্পতির সম্পর্ক এমন এক ‘তিক্ততার জায়গায় পৌঁছেছে, যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়’।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের মেডিয়েশন সেন্টারের মাধ্যমেও ওই দম্পতিকে বোঝানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
১৪২ ধারার প্রয়োগ: ‘আইনি সম্পর্কে টিকিয়ে রাখা অর্থহীন’
রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে। আদালত জানায়, “ওই দম্পতির সম্পর্কে বহু বছর ধরে চলা তিক্ততা এবং অশান্তির প্রভাব পড়েছে। ফলে স্ত্রী এই বিবাহবিচ্ছেদের মামলার বিরোধিতা করলেও দু’জনের বৈবাহিক বন্ধনের অস্তিত্ব আমরা খুঁজে পাইনি।”
শীর্ষ আদালত আরও বলে, “এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র আইনি ভাবে একটি সম্পর্কে টিকিয়ে রাখা আমাদের কাছে অর্থহীন বলেই মনে হয়েছে। ফলে সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারায় দেওয়া অধিকার প্রয়োগ করে আমরা এই মামলায় ডিভোর্সের নির্দেশ দিচ্ছি।” (সংবিধানের ১৪২ নম্বর ধারা সুপ্রিম কোর্টকে সম্পূর্ণ ন্যায় নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে।)
মামলার প্রেক্ষাপট ও খোরপোষ
ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল ২০০৯ সালের ৫ অক্টোবর। বিয়ের পর থেকেই মহিলা তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল তিনি শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়িতে চলে যান এবং ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসেই বাপের বাড়িতে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
এরপর গার্হস্থ্য হিংসা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে স্বামীর হাইকোর্টে করা আবেদনে আংশিক সাড়া দিয়েছিল আদালত এবং স্ত্রী ও সন্তানের জন্য পর্যাপ্ত খোরপোষ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টে স্বামীর পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, তিনি স্ত্রী-কে স্থায়ী ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি টাকা দিতে চান এবং আদালত যাতে নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সম্পর্কে পাকাপাকি ইতি টানে, সেই আর্জিও জানান তিনি।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, খোরপোষের এই অঙ্ক যথেষ্ট। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্বামী যদি তিন মাসের মধ্যে এই ১ কোটি টাকা মিটিয়ে দেন, তাহলে নতুন করে কোনো পক্ষই আর এই মামলা নিয়ে কোনো দাবি জানাবেন না এবং বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হবে।