১৫ বছরের কিশোরী নিখোঁজ, মুক্তিপণ চেয়ে মেসেজ, ঝাড়খণ্ড-বিহার যোগের সন্ধানে পুলিশ

সালানপুর থানা এলাকা থেকে এক দশম শ্রেণির ছাত্রী ৬ দিন ধরে নিখোঁজ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় নিখোঁজ কিশোরীর পরিবার দাবি করেছে যে, তাদের কাছে মুক্তিপণ চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ এসেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের বেশ কিছু এলাকার লোকেশন পেয়েছে, যা এই রহস্যকে আরও গভীর করেছে।

টিউশন থেকে রহস্যজনক অন্তর্ধান
জানা গেছে, গত শনিবার (১৯শে জুলাই) সকালে আসানসোলে টিউশন পড়তে গিয়েছিল সালানপুর থানা এলাকার বাসিন্দা ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরী। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

নিখোঁজ কিশোরীর বাবা সাংবাদিকদের জানান, “শনিবার আমার মেয়ে আসানসোলে পড়তে গিয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে আর কিছু খোঁজ পাচ্ছি না। আমরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তার মেয়ে রূপনারায়ণপুরে একা একটি বাসে উঠেছে এবং আসানসোল স্টেশনেও তাকে দেখা গেছে। পুলিশের মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে বিহারের মধুপুর ও লক্ষ্মী সরাই স্টেশনে তার ফোনের লোকেশন পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যরা ওই এলাকাগুলিতে গিয়েও কোনো খোঁজ পাননি।

মুক্তিপণ দাবি ও অনলাইন লেনদেন
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, নিখোঁজ কিশোরীর বাবা দাবি করেছেন যে, মেয়ের মোবাইল ফোন থেকেই তাকে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। তাতে বলা হয়েছে, তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তিন লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, “আমি ইতিমধ্যেই কিছু টাকা পাঠিয়েছি অনলাইন ট্রান্সফার করে। পুলিশকে পুরো বিষয়টা জানিয়েছি। আমি আমার মেয়েকে ফিরে পেতে চাই।” এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত ও বর্তমান অবস্থা
সালানপুর থানার পুলিশ আধিকারিক এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “গত শনিবার থেকে ওই কিশোরী নিখোঁজ। আমরা অভিযোগ পেয়েছি। মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে এবং যে অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেটি ধরে আমরা তদন্ত করার চেষ্টা করছি। সবদিক খতিয়ে দেখেই পুলিশ এগোচ্ছে।”

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় অপহরণ চক্রের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। মুক্তিপণ চাওয়ার বিষয়টি এবং অনলাইন লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সীমান্তবর্তী এলাকার সঙ্গে এই ঘটনার যোগসূত্র থাকায়, পুলিশ অন্যান্য রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তদন্ত চালাচ্ছে। এই রহস্যজনক নিখোঁজ এবং মুক্তিপণের দাবি এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কিশোরীর দ্রুত ও সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে তার পরিবার এবং এলাকাবাসী।