বজ্রপাতে দক্ষিণবঙ্গে মৃত ৬, বাঁকুড়ায় ৪, পূর্ব বর্ধমানে ২; কৃষিকাজে প্রাণহানি

বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) দুপুরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাতের সময় পৃথক পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণ হারালেন অন্তত ৬ জন। এর মধ্যে বাঁকুড়া জেলায় ৪ জন এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২ জন। বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে মাঠে কৃষিকাজ করার সময়।

বাঁকুড়ায় বজ্রপাতের তাণ্ডব: ৪ জনের মৃত্যু, ২ আহত
এদিন দুপুরের পর বাঁকুড়া জেলার আকাশ কালো করে নামে প্রবল বৃষ্টি। তীব্র বজ্রবিদ্যুৎ-সহ এই বৃষ্টির মাঝেই বাঁকুড়ার কোতুলপুর, ওন্দা, ইন্দাস এবং পাত্রসায়র থানা এলাকায় মর্মান্তিক বজ্রপাতের ঘটনাগুলি ঘটে।

কোতুলপুর: কোতুলপুর থানার খিরি গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক মোল্লা ও আসপিয়া মোল্লা আমন ধান রোপণের কাজ করছিলেন মাঠে। আচমকা বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়ে দুজনেই জমিতে লুটিয়ে পড়েন। তাদের গোগড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জিয়াউল হক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আসপিয়া মোল্লা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

পাত্রসায়র: পাত্রসায়র থানার কাঁটাবন উদয়পল্লী স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বাজ পড়ে গুরুতর আহত হন জীবন ঘোষ নামের এক যুবক। তাকে প্রথমে পাত্রসায়র ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সেখান থেকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হয়ে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি, চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওন্দা: ওন্দা থানার কামারকাটা এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন নারায়ণ সাওয়ার নামের একজন।

ইন্দাস: ইন্দাস থানার বাঙালচক এলাকায় বাজ পড়ে শেখ ইসমাইল নামের একজন মারা গেছেন এবং বুলটি বাগদী নামের এক মহিলা আহত হয়েছেন।

পূর্ব বর্ধমানেও ২ জনের মৃত্যু
বাঁকুড়ার পাশাপাশি পূর্ব বর্ধমান জেলাতেও বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মাধবডিহি: বৃহস্পতিবার সকালে মাধবডিহি গ্রামের পাশের আলমপুর মাঠে চাষের কাজ করার সময় মাধবডিহির বাসিন্দা সনাতন পাত্র (৬০) বজ্রপাতে প্রাণ হারান। মাধবডিহি থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আলমপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

আউশগ্রাম: আউশগ্রাম থানার ভেদিয়া গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় হেব্ররম (২৮) নামের এক যুবকও মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা গেছেন।

এদিনের বজ্রপাতের ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে, বর্ষাকালে বজ্রপাত কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে। রাজ্য জুড়ে আবহাওয়া দপ্তর বজ্রপাতের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে এবং সাধারণ মানুষকে খোলা জায়গায় কাজ করা বা আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে মাঠে কর্মরত কৃষকদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।