চন্দননগর কর্পোরেশনে ধুন্ধুমার, বিজেপি মিছিলে পুলিশের বাধা, গেট ভেঙে মেয়রের দপ্তরে প্রবেশ!

বৃহস্পতিবার (২৪শে জুলাই) দুপুরে হুগলির চন্দননগর কর্পোরেশন চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ালো বিজেপির এক প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে। ৭ দফা দাবিতে বিজেপি কর্মীরা কর্পোরেশন অফিসের মূল ফটকের সামনে পৌঁছানো মাত্রই পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ, পুলিশ গেট আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে সেই ধাক্কাধাক্কিতেই কর্পোরেশনের প্রধান গেট ভেঙে পড়ে। এরপর বিজেপি কর্মীরা সোজা ঢুকে পড়েন মেয়রের দপ্তরে, যদিও সেই সময় মেয়র নিজের চেম্বারে উপস্থিত ছিলেন না।
মেয়রের অনুপস্থিতি ও ‘চোর চোর’ স্লোগান
মেয়রের অনুপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা কর্পোরেশন চত্বরেই ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি বিশাল পুলিশবাহিনী এবং আইসি-র নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের কর্পোরেশন চত্বর থেকে বের করে দেয়।
বিজেপির ৭ দফা দাবি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
চন্দননগর দক্ষিণ মণ্ডলের সভানেত্রী সুনন্দা সাহা জানান, তাঁরা এক সপ্তাহ আগেই মেয়রকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তাদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে ছিল শহরের বেহাল রাস্তাঘাটের সংস্কার, সুষ্ঠু জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় দুর্নীতির তদন্ত এবং বেআইনি পুকুর ভরাট বন্ধ করা। সুনন্দা সাহা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এক মাসের মধ্যে তাঁদের দাবিগুলি মেনে নেওয়া না হয়, তবে বিজেপি আবারও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।
এলাকায় চাঞ্চল্য ও পুলিশি নজরদারি
এই ঘটনার জেরে চন্দননগর কর্পোরেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনা আবারও স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিজেপির তীব্র বিরোধিতার চিত্র তুলে ধরল এবং আগামী দিনে চন্দননগরের রাজনীতিতে আরও উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।