১৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ার মুখে, জেনেনিন কী বলছে নির্বাচন কমিশন?

৪ ডিসেম্বর, রবিবার, শেষ হচ্ছে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR – Systemic Improvement of the Register) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এনুমারেশন পর্ব—অর্থাৎ ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়ার সময়সীমা। আর এই শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন কমিশন এমন তথ্য প্রকাশ করেছে, যা গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১৪ লক্ষ এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করা যায়নি এবং তার ফলে জমাও পড়েনি।

এই বিশাল সংখ্যক ফর্ম জমা না পড়ার অর্থ হলো, প্রায় ১৪ লক্ষ ভোটারের নাম রাজ্যের সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়ার চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কমিশন কী জানাচ্ছে? সংখ্যাটা কীভাবে বাড়ল?

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই ১৪ লক্ষ ফর্মের মধ্যে মূলত রয়েছে ডুপ্লিকেট ভোটার, মৃত ভোটার এবং যাঁরা স্থায়ীভাবে ঠিকানা বদল করেছেন—এমন ব্যক্তিদের ফর্ম।

গত সোমবার পর্যন্ত জমা না পড়া ফর্মের সংখ্যা ছিল ১০ লক্ষ ৩৩ হাজার। কিন্তু মাত্র এক দিনের মধ্যেই সংখ্যাটি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এক নির্বাচনী আধিকারিক জানান, “মঙ্গলবার বেলা পর্যন্ত না জমা পড়া ফর্মের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লক্ষ ৯২ হাজার (প্রায় ১৪ লক্ষ)। আগামী কয়েকদিনের আপডেটে এই পরিসংখ্যান আরও বাড়তে পারে।” এর থেকেই স্পষ্ট যে ১৪ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে।

মাঠে কারা কাজ করছেন?

 

এনুমারেশন পর্ব সুসম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন জোরকদমে কাজ চালাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন:

  • ৮০ হাজার ৬০০ জন বুথ লেভেল অফিসার (BLO)

  • ৮ হাজার সুপারভাইসার

  • ৩ হাজার সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)

  • ২৯৪ জন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)

যদিও এই কাজের বিপুল চাপের মধ্যে SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন ৩ জন BLO-র মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন, যা কর্মীদের উপরকার মানসিক ও শারীরিক চাপকে ইঙ্গিত করে।

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: ৯ ডিসেম্বরের পর মাঠে নামবে রাজ্য সরকার

 

এদিকে, আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে। এই খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই পরিস্থিতি “ভয়াবহ” হতে পারে বলে মঙ্গলবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সমস্যা দেখা দিলে রাজ্য সরকার মাঠে নেমে জনসাধারণকে সবরকম সাহায্য করবে। সাধারণ মানুষের নথি পেতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

উল্লেখ্য: SIR নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন তৃণমূল নেতা থেকে শুরু করে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর মতো নেতারা কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে মতুয়া সমাজে এই প্রক্রিয়া উদ্বেগ সৃষ্টি করায় বনগাঁয় মিছিল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও।