১৩১ কেজি চালের নৈবেদ্য, ১৩ বার বলিদান! ২৮১ বছরের পুরনো দেব সরকার বাড়ির পুজোয় লুকিয়ে আছে এই রহস্য!

আকাশে শরতের মেঘ জানান দিচ্ছে, উমা আসছে। দুর্গাপূজা দোরগোড়ায় আর এই উৎসবের অন্যতম অংশ হলো ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির পুজো। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার মালা গ্রামে দেব সরকার পরিবারের দুর্গাপূজা তেমনই এক ঐতিহাসিক বুনিয়াদ। প্রায় ২৮১ বছর ধরে এই বাড়িতে দেবী দুর্গার আরাধনা হয়ে আসছে।
ঐতিহ্য আর ইতিহাসের মেলবন্ধন
পলাশীর যুদ্ধের অনেক আগে থেকেই এই পরিবারের উত্থান ঘটেছিল বলে কথিত আছে। বিহারীলাল দেব নামে কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী ফলতার মালা গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল বাড়িটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে শত্রুপক্ষ সহজে আক্রমণ করতে পারত না। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র কালীকৃষ্ণ দেব ১১২৫ বঙ্গাব্দে প্রথম এই অঞ্চলে দুর্গাপূজার প্রচলন করেন।
বিশেষত্ব ও নিয়মনিষ্ঠা
দেব সরকার বাড়ির দুর্গাপূজার রয়েছে বেশ কিছু বিশেষত্ব। এখানে প্রতিমা একচালার, যা তাদের প্রাচীন ঐতিহ্যের পরিচয় বহন করে। দেবীর বোধন হয় একটি সুপ্রাচীন বেলগাছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত ১৩১ কিলো চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয় এবং এই চারদিন বলি প্রথা চালু রয়েছে। এখনও বংশপরম্পরায় মৃৎশিল্পী শ্রীকান্ত চিত্রকর এই পরিবারের প্রতিমা তৈরি করে আসছেন।
পরিবারের সদস্য তাপস দেব সরকার বলেন, “জমিদারি প্রথা উঠে গেলেও পুজোর জৌলুস আজও বজায় আছে। বর্তমানে নতুন প্রজন্মের সদস্যরা এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে।” তিনি আরও জানান, একসময় এখানে ১৫ দিন ধরে যাত্রা ও কবিগানের আসর বসত এবং ইংরেজ সাহেবরাও এই দুর্গোৎসবে নিমন্ত্রিত হতেন। চারণকবি মুকুন্দ দাসও এখানে পালাগান করেছিলেন বলে জানা যায়।
পরিবারের আরেক সদস্য সজল দেব সরকার জানান, পুজোর এই চারটে দিন তাঁরা অত্যন্ত ব্যস্ত থাকেন। পরিবারের পুরুষ ও মহিলা সদস্যরা একসঙ্গে পুজোর সমস্ত কাজে হাত লাগান এবং পুজোর আনন্দেই তাঁরা মেতে থাকেন।