১২ পাতার ফর্ম নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে! ভুয়ো উপভোক্তা ছাঁটাইয়ে মরিয়া সরকার, আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী

অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে রাজ্যজুড়ে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি কাটাতে আসরে নামলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, কোনো যোগ্য উপভোক্তা যেন বিচলিত না হন এবং গুজবে কান না দেন। সরকারের তরফে প্রতিটি আবেদনকারীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবেন সাহায্য: অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, এত বড় ফর্ম পূরণ করা অনেকের পক্ষেই কঠিন। এর উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যারা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হবে। বাড়িতে গিয়েই প্রতিনিধিরা ফর্ম পূরণ করিয়ে আনবেন। তাই সাধারণ মানুষকে অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার থেকেই শুরু আর্থিক সুবিধা: মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ইতিমধ্যে প্রকল্পের নাম নথিভুক্তকরণ শুরু হয়ে গেছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের টাকা আগামী বুধবারই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ট্রান্সফার করা হবে। তিনি বলেন, “আগামী বুধবার থেকে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে যাবে প্রাপকদের হাতে।”

কেন এত কড়াকড়ি ও তথ্য সংগ্রহ? অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ফর্মের জটিলতা নিয়ে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনাকে আমল না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, সরকার চায় প্রকৃত যোগ্য মহিলারা যেন এই সুবিধার আওতায় আসেন। তাঁর কথায়:

  • ভুয়ো নাম ও লিঙ্গ জালিয়াতি: পূর্ববর্তী প্রকল্পের নামে অনেক পুরুষের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার ঘটনা সামনে এসেছে, যা অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারও করা হয়েছে।

  • নাগরিকত্ব যাচাই: অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা কেবল ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন। কোনো অভারতীয় বা অযোগ্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে যেন সরকারি অর্থ না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পুঙ্খানুপুঙ্খ স্ক্রুটিনি।

প্রতিশ্রুতি পালনের অঙ্গীকার: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জোর দিয়ে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সঙ্কল্পপত্রের প্রতিটি শব্দ পূরণ করাই আমাদের সরকারের দায়বদ্ধতা।” প্রকৃত উপভোক্তাদের খুঁজে বের করে স্বচ্ছভাবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy