১২ জনের মৃত্যু, কাঁপল দিল্লি! i20 গাড়ির মালিকানা নিয়ে ভয়ঙ্কর ধোঁয়াশা, সন্ত্রাস যোগের ইঙ্গিত

দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে এবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থা দাবি করেছে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত সাদা রঙের হুন্ডাই i20 গাড়িটি (নম্বর HR26CE7674) ঘটনার অন্তত দশ দিন আগে থেকেই রাজধানী দিল্লিতে ঘোরাফেরা করছিল।
👉 সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন: সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার আগে ২৯ অক্টোবর বিকেল ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ গাড়িটি একটি পেট্রল পাম্পে দূষণ পরীক্ষা (Pollution Check) করাচ্ছে। সেখানে গাড়িতে তিনজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন—একজন গাড়ি চালাচ্ছিলেন, বাকিরা পরে ভিতরে উঠে বসেন। এখন নিরাপত্তা সংস্থা টোলপ্লাজা, সিসিটিভি ও মোবাইল টাওয়ারের তথ্য মিলিয়ে গাড়ির গতিপথ পুনর্গঠন করছে।
👉 মালিকানা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা: বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি নিয়েই সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হুন্ডাই i20 গাড়িটি একাধিকবার হাতবদল হয়েছে (সালমান থেকে দেবেন্দ্র, সোনু এবং তারিক), কিন্তু কোনওবারই সরকারি নথিতে মালিকানা পরিবর্তনের রেকর্ড নেই। গাড়ির এই অস্বচ্ছ ইতিহাসই এখন জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য সংযোগের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো—বিস্ফোরণের দিন গাড়ির শেষ ক্রেতা কে ছিলেন এবং কে চালাচ্ছিলেন।
👉 বিস্ফোরণের বিভীষিকা: ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার পর লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়িটি থামার মুহূর্তেই ঘটে প্রবল বিস্ফোরণ। আশপাশের তিন থেকে চারটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কাচ ও ধাতব অংশ উড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অন্তত ১২ জন প্রাণ হারান এবং বহু পথচারী ও অটো রিকশার যাত্রী আহত হন।
👉 কঠোর আইনে মামলা: এই বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ হিসেবে ধরে নিয়ে দিল্লি পুলিশ অবৈধ কার্যকলাপ (রোধ) আইন (UAPA), বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই বিস্ফোরণের পরিকল্পনা অত্যন্ত পেশাদারভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে গাড়িটি ও তার আরোহীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়। দিল্লি পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ আধিকারিক জানিয়েছেন, গাড়ির চালক এবং তিন সন্দেহভাজনের পরিচয় স্থির করতে পারলেই পুরো চক্রের চেহারা স্পষ্ট হবে।