নিজস্ব প্রতিবেদন: মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গন এখন আগ্নেয়গিরি। একদিকে ইজরায়েল ও আমেরিকার সাঁড়াশি আক্রমণ, অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা-র অভিষেক— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতি। ফলস্বরূপ, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশ ছুঁয়েছে। মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেলে তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ ডলার।
১১ দিনে অবিশ্বাস্য লাফ: রেকর্ড দামে ক্রুড অয়েল
পরিসংখ্যান বলছে, যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি মাত্র ৬৭ ডলার। আজ, ৯ মার্চ সোমবার সকালে সেই দাম পৌঁছেছে রেকর্ড ১১৬ ডলারে।
-
ব্রেন্ট ক্রুড: গত সাত দিনেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
-
WTI ক্রুড: মাত্র এক সপ্তাহে ২৬ শতাংশ দাম বেড়েছে এই তেলের।
ভারতে কি বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম?
ভারত যেহেতু জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আপাতত বড় স্বস্তির খবর দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি:
-
এখনই দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ছে না।
-
আইওসি (IOC), বিপিসিএল (BPCL) এবং এইচপিসিএল (HPCL)-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি বছরের শুরুতে বিপুল মুনাফা করেছে।
-
সেই জমানো মুনাফা থেকেই এই জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি বোঝা না চাপে।
অনিশ্চয়তার মেঘ মধ্যপ্রাচ্যে
আয়াতোল্লাহ পুত্র মোজতবা ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদে আসীন হওয়ার পর তেহরানের রণকৌশল আরও আক্রমণাত্মক হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই রাজনৈতিক পালাবদলই তেলের বাজারের ফাটকা কারবারিদের উসকে দিয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ভারতে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ সেই ‘স্ট্যাটাস কু’ কতদিন বজায় রাখতে দেয়, সেটাই এখন দেখার।