“১০ সেকেন্ড ধরে বিকট শব্দ আর প্রলয়কাণ্ড!” স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, দেখুন ড্রোন ফুটেজ

ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল স্পেন। বুধবার সকালে মাদ্রিদ থেকে সেভিয়া যাওয়ার রেলপথে দুটি হাইস্পিড ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইনের পাশের ঢালে গড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনাস্থলের ড্রোন ফুটেজে উঠে এসেছে এক বিভীষিকাময় চিত্র— চারদিকে শুধু দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া লোহার কাঠামো আর ধ্বংসস্তূপ।

কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রেনফে (Renfe)-র একটি AVE হাইস্পিড ট্রেন পিছন থেকে ইরিও (Iryo)-র একটি থেমে থাকা ট্রেনকে সজোরে ধাক্কা মারে। ট্রেনের গতি এতটাই বেশি ছিল যে সংঘর্ষের অভিঘাতে দ্বিতীয় ট্রেনটির ইঞ্জিন সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। ধাক্কার তীব্রতায় ট্রেন দুটির একাধিক কামরা লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়ে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘এল প্যারিস’-এর প্রাথমিক রিপোর্টে সিগন্যালিং ব্যবস্থা বা কন্ট্রোল রুমের নির্দেশিকায় কোনো বড় ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

৫৪৪ জন যাত্রীর মধ্যে বীভৎস অভিজ্ঞতা:

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী সওয়ার ছিলেন। যার মধ্যে ইরিও ট্রেনে ১৪৭ জন (একটি শিশুসহ) এবং রেনফে ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী জানান, “সংঘর্ষের ঠিক আগে প্রবল ধাক্কার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে এক সাংঘাতিক বিকট শব্দ শুনতে পাই। জ্ঞান ফিরে দেখি চারপাশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।” পেছনের কোচে থাকায় বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে যান ওই যাত্রী। দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে দমকল, পুলিশ ও চিকিৎসকদল।

প্রধানমন্ত্রীর শোক ও রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন:

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি পরিস্থিতি ব্যক্তিগতভাবে মনিটর করছেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দক্ষিণ স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফের এমন রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটায় দেশের রেল পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।