‘১০ সেকেন্ডের রিলই তছনছ করতে পারে কেরিয়ার!’ টিভিতে মুখ খোলার আগে সমাজবাদী পার্টির নেতাদের চরম সতর্কবার্তা অখিলেশের!

সামনেই উত্তরপ্রদেশের ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে নিজেদের মিডিয়া কৌশল এবং জনসংযোগকে একেবারে পোক্ত করতে আসরে নেমে পড়লেন সমাজবাদী পার্টির (SP) সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। সম্প্রতি দলের মুখপাত্র ও মিডিয়া সেলের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। সোশাল মিডিয়া, টিভি বিতর্ক এবং রাজনৈতিক বয়ান নিয়ে দলের নেতামন্ত্রীদের একগুচ্ছ কড়া ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দিয়েছেন সপা প্রধান।
প্রস্তুতি ছাড়া টিভিতে নয়, ১০ সেকেন্ডের রিল নিয়ে সতর্কবার্তা: বৈঠকের শুরুতেই অখিলেশ যাদব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলির ডিবেট বা টক শোয়ে না জেনেই হুট করে কোনো মন্তব্য করা চলবে না। তাঁর সাফ কথা, কোনো বিষয়ে সম্পূর্ণ তথ্য ও পরিসংখ্যান সংগ্রহ না করে বিতর্কে অংশ নিলে তা দলের জন্য হিতের বিপরীত হতে পারে।
সোশাল মিডিয়ার বর্তমান যুগের কথা তুলে ধরে তিনি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, একটি ১০ সেকেন্ডের ছোট ভিডিও ক্লিপ বা রিল রাতারাতি কোনো রাজনৈতিক নেতার ভাবমূর্তি তৈরি করতে পারে, আবার মুহূর্তে তা ধুলিসাৎও করে দিতে পারে। তাই প্রতিটি শব্দ চয়ন এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে চরম সংযত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ধর্ম বা জাতিগত সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার সময় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শও দিয়েছেন সপা সুপ্রিমো।
মুখপাত্রদের জন্য অখিলেশের বিশেষ নির্দেশ:
সংযম ও শালীনতা: রাজনৈতিক বিরোধীরা ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি করলেও মাথা ঠান্ডা রেখে বিনয়ের সঙ্গে তার জবাব দিতে হবে।
বিজেপির সংস্পর্শে থাকা নেতাদের বার্তা: দলের অন্দরে যাঁরা বিজেপির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ রাখছেন, তাঁদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে অখিলেশ সাফ জানিয়েছেন যে, কার কী গতিবিধি রয়েছে তার সম্পূর্ণ খবর দলের নেতৃত্বের কাছে রয়েছে। দল ছাড়তে ইচ্ছুক হলে তাঁদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে।
সব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নয়: রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যু মানেই সঙ্গে সঙ্গে মুখ খুলতে হবে এমন নয়। পরিস্থিতি বুঝে অনেক সময় নীরব থাকাও একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে।
জরিপ ও গুজব থেকে দূরত্ব: সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো বিভিন্ন ভুয়া সমীক্ষা বা রাজনৈতিক গুঞ্জনে কান না দিয়ে সম্পূর্ণভাবে মাটি কামড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নজর দিতে হবে।
অডিও-ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন ও পেশাদার কৌশল: এদিনের বৈঠকে সপা শুধু মৌখিক নির্দেশেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দলের মুখপাত্রদের জন্য একটি বিশেষ অডিও-ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অতীতে বিভিন্ন টিভি বিতর্কে দলের কিছু নেতার বিতর্কিত বা অপরিপক্ক মন্তব্যের ক্লিপগুলি প্রদর্শন করে ভুলত্রুটিগুলি ধরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, দলের গবেষণা ও মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিকে আরও ধারাল করতে এবং বিজেপিকে সোশাল মিডিয়ায় উপযুক্ত তথ্য দিয়ে জবাব দিতে বিশেষ পেশাদার মহলের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের লড়াইয়ের আগে সংবাদ মাধ্যম ও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সমাজবাদী পার্টি যে অত্যন্ত অনুশাসন এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক রণকৌশল নিয়ে এগোতে চাইছে, অখিলেশের এই বৈঠক তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।