ইসিআই-এর অন্তরে তুমুল অসন্তোষ? চিঠিকান্ড থেকে SIR বিতর্ক, সব অভিযোগের পয়েন্ট ধরে ধুন্ধুমার ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের!

SIR প্রক্রিয়া, ইসিআইনেট (ECINet) পোর্টাল এবং সম্প্রতি ক্যাবিনেট সচিবকে পাঠানো অভ্যন্তরীণ চিঠি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল দেশীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক মারাত্মক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। এই সমস্ত বিতর্কের মাঝেই শনিবার নয়া দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে জরুরি বৈঠকে বসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু ও বিবেক জোশীর সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।
বিকেল ৩টেয় শুরু হওয়া ওই দীর্ঘ বৈঠকের পর কমিশনের তরফে একটি বিস্তৃত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি গুরুতর অভিযোগের পয়েন্ট ধরে ধরে ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচনী নিয়ামক সংস্থা।
কমিশনের পক্ষ থেকে প্রধান অভিযোগগুলির যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি বিতর্ক:
অভিযোগ: সাংবিধানিক সংস্থা হয়েও দুই নির্বাচন কমিশনার এস এস সান্ধু ও বিবেক জোশী ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছিলেন যে, কমিশনে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না এবং একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
কমিশনের ব্যাখ্যা: নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ওই চিঠিটি কোনো নীতিগত বা আইটি বিভাগ সংক্রান্ত বিষয়ে ছিল না। ইসিআই-তে প্রেষণে (Deputation) কর্মরত এক আধিকারিকের কাজের ভুল-ত্রুটি ও তাঁর নির্দেশে কার্যবণ্টন বাস্তবায়িত না হওয়া নিয়ে ওই চিঠি লেখা হয়েছিল। কমিশন আরও জানিয়েছে, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের আইটি বিভাগের উপর নজরদারির ক্ষমতা বাস্তবে কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।
২. SIR নিয়ে ভেতরের মতপার্থক্য:
অভিযোগ: একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের তদন্তমূলক রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার নিয়মাবলী নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি তুলেছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার।
কমিশনের ব্যাখ্যা: এই দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৪ জুন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে SIR চালুর যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা কমিশনের সর্বসম্মত অনুমোদনেই কার্যকর হয়। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত সময়সূচিগুলিও সর্বসম্মতিতেই জারি করা হয়েছিল। এছাড়া মূল SIR নির্দেশিকা সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
৩. ফর্ম ৬-এর ঘোষণাপত্র বিতর্ক:
অভিযোগ: নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে ফর্ম ৬-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ঘোষণাপত্রে বাবা-মায়ের নাম বাধ্যতামূলকভাবে ম্যাপিং করার দাবি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
কমিশনের ব্যাখ্যা: কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘোষণাপত্রটির বৈধতা সুপ্রিম কোর্ট মেনে নিয়েছে। আর SIR প্রক্রিয়া যখন চালু থাকবে না, তখন ‘রেজিস্ট্রেশন অব ইলেক্টোরালস রুল, ১৯৬০’ অনুযায়ী নির্ধারিত স্বাভাবিক ফর্মগুলিই ব্যবহার করা হবে।
৪. ECINET পোর্টাল পর্যালোচনা ও কারিগরি দল:
অভিযোগ: ইসিআইনেট পোর্টালের প্রযুক্তিগত জটিলতা ও কাজের ধীরগতি নিয়ে মাঠপর্যায়ের আধিকারিকদের থেকে নানাবিধ অভিযোগ উঠছিল।
কমিশনের ব্যাখ্যা: এই পোর্টালের কাজকর্ম পর্যালোচনার জন্য এক সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিরপেক্ষতার স্বার্থে এই কমিটিতে আইআইটি (IIT) বা আইআইআইটি (IIIT)-র একজন স্বাধীন বিশেষজ্ঞকে রাখা হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন আইটি মডিউল চালুর আগে আধিকারিকদের কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনার পরেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন কড়া পদক্ষেপ: বিতর্ক এড়াতে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মেও বড়সড় বদল এনেছে কমিশন। এখন থেকে প্রতিটি বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি বা ‘এজেন্ডা’ আগেই সদস্যদের কাছে পাঠাতে হবে এবং বৈঠকের পর লিখিত ‘কার্যবিবরণী’ (Minutes) প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে কমিশনারদের নির্দেশ আধিকারিকরা যাতে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন, তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।