১০ লক্ষ টাকার আবদার নাকি জন্মদিনের উপহার? বাড়িতে বধূ খুনে বিরাট মোড়!

মেদিনীপুর শহর সংলগ্ন যমুনাবালির এক প্রাসাদোপম দোতলা বাড়ি এবং তার গ্যারেজে রাখা একটি ধূসর রঙের চকচকে বিএমডব্লিউ (BMW)—বর্তমানে এই দুইয়ের ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য। গত ৮ অক্টোবর ওই বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় বছর পঁচিশের বধূ স্নেহা চক্রবর্তীর ঝুলন্ত বা রহস্যজনক মৃতদেহ। আর এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁর স্বামী রণদীপ জানা এবং শ্বশুর রতন জানা। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে চরম চাঞ্চল্য।
বেসরকারি হাসপাতালে এইচআর পদে কর্মরত স্নেহার বাপের বাড়ির অভিযোগ, বিএমডব্লিউ গাড়ি কেনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ১০ লক্ষ টাকা পণ চেয়ে স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালাতেন স্বামী রণদীপ। ঘটনাচক্রে, স্নেহার দেহ উদ্ধারের ঠিক দু’দিন আগে, অর্থাৎ গত ৫ অক্টোবর রণদীপের নামেই নথিভুক্ত হয় ওই বিলাসবহুল গাড়িটি (নম্বর: ডব্লিউবি৩৩কিউ১১১৩)। যদিও রণদীপের পরিবারের প্রাথমিক দাবি ছিল, স্নেহার ৩০ সেপ্টেম্বরের জন্মদিন উপলক্ষেই ওই গাড়িটি উপহার দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এই দাবির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর পেশায় বালি ব্যবসায়ী রণদীপ ও তাঁর বাবাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হলে বিচারক রণদীপকে চার দিনের পুলিশি হেফাজত এবং রতন জানাকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, জেরা চলাকালীন দাম্পত্য কলহের কথা স্বীকার করেছেন স্বামী রণদীপ। স্ত্রীকে মারধরের কথা কবুল করলেও, এই বিবাদের নেপথ্যে সত্যিই ওই বিএমডব্লিউ গাড়ি বা টাকার দাবি ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি তিনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে বিলাসবহুল গাড়ির ঝলকানির আড়ালে এমন এক নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা পাড়াপ্রতিবেশী।