গরমে এসি ছাড়াও কি শরীর থাকবে ঠান্ডা? এই একটি সাধারণ সবজিই বাঁচাবে মারাত্মক হিটস্ট্রোক থেকে!

ভয়ংকর গরম আর তীব্র দাবদাহে নাজেহাল জনজীবন। আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে শুরু করেছে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন, হিট ক্র্যাম্প এবং বিভিন্ন পেটের সমস্যার মতো একাধিক গ্রীষ্মকালীন অসুস্থতা। শরীরকে এই চরম গরমের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে চিকিৎসকরা বিভিন্ন পানীয় ও মৌসুমী ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে পুষ্টিবিদ এবং আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরের অতি পরিচিত এবং অত্যন্ত সাধারণ একটি উপাদান—পেঁয়াজ, যা গরমে সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে এক অদ্বিতীয় ও জাদুকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। সালাদে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার অভ্যাস কিংবা দৈনন্দিন রান্নায় এর ব্যবহার কেবল খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, বরং এর রয়েছে অসাধারণ সব স্বাস্থ্যগুণ।
পুষ্টি বিজ্ঞান অনুযায়ী, পেঁয়াজের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা গরমের দিনে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং কোষে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ কার্যকরী। এছাড়া এতে থাকা ‘কুয়েরসেটিন’ (Quercetin) নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সিস্টেমকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে এবং গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন অ্যালার্জি ও প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের শীতলতাকারী বা কুলিং প্রপার্টিজ শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, যা হিটস্ট্রোক বা লু লাগার ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে কমিয়ে দেয়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও পেঁয়াজকে প্রাকৃতিক শীতলকারক হিসেবে গণ্য করা হয়।
গরমের দিনে পেটের গোলমাল, বদহজম বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা খুব কমন। পেঁয়াজে উপস্থিত ফাইবার এবং ডায়েটারি প্রিবায়োটিকস অন্ত্রের স্বাস্থ্য বা গাট হেলথ ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখে। ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং অ্যাসিডিটির হাত থেকে মুক্তি মেলে। শুধু তাই নয়, কাঁচা পেঁয়াজে থাকা সালফার যৌগ রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত উপকারী। তাই গ্রীষ্মের এই খরতাপে সুস্থ, সবল ও চনমনে থাকতে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পেঁয়াজ রাখার বিকল্প নেই।