সুস্থ থাকতে প্রতিদিন মাছ খাচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মেলার মতো মারণ ক্যানসার!

মাছকে আমরা বরাবরই একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবেই জেনে এসেছি। প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন খনিজের সমৃদ্ধ উৎস হওয়ায় ডাক্তার ও পুষ্টিবিদরাও নিয়মিত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু সম্প্রতি বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য দুনিয়ায় এক চাঞ্চল্যকর গবেষণার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে, যা রীতিমতো ঘুম কেড়ে নিয়েছে মাছপ্রেমীদের। গবেষকদের দাবি, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মাছ রাখা মানেই ত্বকের ক্যানসারের মতো ভয়ংকর মারণব্যাধির ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেওয়া। এই নতুন তথ্য সামনে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা ও বিতর্ক।

আমেরিকান জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত বেশি পরিমাণে মাছ খান, তাঁদের মধ্যে বিশেষ এক ধরনের ত্বকের ক্যানসার বা ‘মেলানোমা’ (Melanoma)-র ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। গবেষকরা প্রায় কয়েক হাজার মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত তথ্য দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পুষ্টিকর খাবার হওয়া সত্ত্বেও মাছ কীভাবে ক্যানসারের মতো রোগ ডেকে আনছে? গবেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে নদী, সাগর ও জলবায়ুর ব্যাপক দূষণের কারণে জলে বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক, হেভি মেটাল এবং টক্সিন জমা হচ্ছে। মাছ যখন এই দূষিত জল থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তখন সেই বিষাক্ত উপাদানগুলি মাছের শরীরে জমা হয়। মানুষ যখন সেই মাছ নিয়মিত খায়, তখন সেই রাসায়নিকগুলি মানবদেহে প্রবেশ করে এবং কোষের ডিএনএ পরিবর্তন করে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ এবং চাষের মাছে পারদ ও পলিক্লোরিনেটেড বাইফেনাইল (PCBs)-এর মতো বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা অনেক বেশি থাকে, যা ত্বকের কোষের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আজ থেকেই চিরতরে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, মাছের গুণাগুণ সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং ভালো উৎস বা বিশ্বস্ত স্থান থেকে সংগৃহীত মাছ খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত। সঠিক সচেতনতা এবং খাদ্য নির্বাচনে একটু সতর্কতা অবলম্বন করলেই এই মারণ ঝুঁকি থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।