বদলি ঠেকাতে ফুঁসছে নাগৌর! পিএম শ্রী স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনে ছাত্র ও গ্রামবাসী

নাগৌর জেলার মের্তা মহকুমার জারোদা গ্রামের পিএম শ্রী সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। জনপ্রিয় অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আখতার নাদিমের বদলির আদেশ বাতিল না করায়, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্কুল অচল করে রেখেছেন ছাত্রছাত্রী এবং গ্রামবাসীরা। স্কুলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে এই প্রতিবাদ এখন এক দীর্ঘমেয়াদী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে, যা শিক্ষা বিভাগের প্রশাসনিক কর্তাদের ঘুম কেড়েছে।
রাজ্যের ১০টি বিশেষ ‘পিএম শ্রী’ বিদ্যালয়ের তালিকায় থাকা জারোদা পিএম শ্রী স্কুলে এই অস্থিরতা পুরো অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা সম্পূর্ণ বর্জন করার ফলে তাদের শিক্ষাজীবন এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো সুরাহা না মেলায় অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা তাদের অবস্থানে অনড়। এদিকে, স্থানীয় মের্তা বিধায়কের এই পুরো বিষয়টি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার কৌশল নিয়েও স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
বুধবার বিকেলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) সুনীল চৌধুরী এবং ডিএসপি রামকরণ মালিন্দা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের কাছে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আখতার নাদিমকে আগামী তিন মাসের জন্য বদলি করা হবে না। তবে এই ‘অস্থায়ী আশ্বাস’ আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। গ্রামবাসী ও ছাত্রছাত্রীদের সাফ বক্তব্য—তিন মাসের স্থগিতাদেশ নয়, বরং বদলির আদেশ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ নাদিম তাঁর কর্মদক্ষতা ও মানবিকতার মাধ্যমে স্কুলটির মানচিত্র বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর বদলি মানেই বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের ছন্দপতন। প্রতিবাদকারীদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত শিক্ষা বিভাগ তাদের দাবি মেনে বদলির আদেশ প্রত্যাহার করছে, ততক্ষণ স্কুল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট এখন প্রশাসনকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে তোলা যায়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে পুরো জেলা।