১০ কোটির মানহানির নোটিশ! অভিষেকের রোষানলে মদন মিত্র, ২১ জুলাইয়ের আবহে তুঙ্গে রাজনৈতিক কোন্দল!

বাংলায় একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবসের আবহে শাসক দলের অন্দরে চরম রাজনৈতিক কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। অপমানজনক ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগে কামারহাটির জনপ্রিয় তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রকে এবার সরাসরি ১০ কোটি টাকার মানহানির আইনি নোটিশ পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই চাঞ্চল্যকর আইনি পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে, যা নিয়ে শাসক শিবিরের অন্দরে নানা গুঞ্জন ও চর্চা ডালপালা মেলতে শুরু করেছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর মাধ্যমে প্রেরিত ওই আইনি নোটিশে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে দাবি করা হয়েছে যে, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে মদন মিত্র যে সমস্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। নোটিশে বলা হয়েছে ওই মন্তব্যগুলি সম্পূর্ণ মনগড়া, মিথ্যা এবং রাজনৈতিকভাবে বিদ্বেষমূলক। এর ফলে সাধারণ মানুষ ও কর্মী মহলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সুনাম, রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করার মতো নয়।
আইনি নোটিশে কড়া নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী তিন দিনের মধ্যে বিধায়ক মদন মিত্রকে সর্বসমক্ষে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ তাঁকে ১০ কোটি টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত খবরে আরও জানা গিয়েছে যে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রাপ্ত এই বিশাল অঙ্কের ১০ কোটি টাকা ব্যক্তিগত কোনো কাজে ব্যবহার করা হবে না। সম্পূর্ণ অর্থ একটি রেজিস্টারে নাম নথিভুক্ত সরকারি ট্রাস্টে জমা রাখা হবে। সেখান থেকে মূলত দলত্যাগকারী সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই পরিচালনা করতে এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার হওয়া সাধারণ মানুষ ও দলের নিচুতলার কর্মীদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের কাজে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাওয়া এবং ক্ষতিপূরণ না দিলে কামারহাটির প্রভাবশালী বিধায়কের বিরুদ্ধে কঠোর দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে ওই নোটিশে।